ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টমটম চালক মো. সবুজ হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে। ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১২৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী এ আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে মহিপালে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দায়ের হওয়া ২৪টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার বিচার শুরু হলো।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘আসামি কারা তা মুখ্য বিষয় নয়, ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছে ফেনীবাসী।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ হারান টমটম চালক মো. সবুজ। পরে ওই বছরের ১৩ আগস্ট সবুজের ভাই মো. ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ৯ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে এজাহারনামীয় ৬৫ জন এবং নতুন করে শনাক্ত ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। পরে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর পলাতক থাকায় নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ ৭১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এই মামলায় এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত পাঁচজন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনসহ মোট ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে সংঘটিত নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফেনী মডেল থানায় ২৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যা এবং ১৭টি হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার মামলা। ফেনীর ঘটনায় হওয়া মোট ৮টি হত্যা মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩টির চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মাহবুবুল হক মাসুম হত্যা মামলার চার্জশিটে প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নামও ওই চার্জশিটে রয়েছে।

