পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় পরাজয় ও বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলায় ১৮ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৬৫টি আসনে জয়লাভ করে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ছাড়িয়ে গেছে বিজেপি।
পরাজয়ের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে ‘লুণ্ঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে একে ‘বিজেপি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ১০০-র বেশি আসন ‘লুট’ করা হয়েছে। নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরেও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা। এই জয়কে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুংকার ছেড়েছেন যে, তার দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।
এবারের নির্বাচন একাধিক দিক থেকে নজিরবিহীন ছিল। পুরো রাজ্যে গড় ভোটদানের হার ছিল ৯২ শতাংশের বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে নির্বাচনের আগে বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার (SIR) মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০.৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ভোটার কমানোর এই প্রক্রিয়া মূলত শাসক দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিত ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের কার্যালয়ে ইডির হানা এবং সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিত হয়ে নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। এমনকি ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশের ফলে সোমবার কেবল ২৯৩টি আসনের গণনা সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলায় এই ঐতিহাসিক জয়ের পর দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে বিজয় উৎসবে শামিল হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিহার নির্বাচনের সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এবার পদ্ম ফুটেছে। এই জয়কে গণতন্ত্র ও সংবিধানের জয় হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা এখন ভয়মুক্ত এবং উন্নয়নের পথে অগ্রসর। আসামে টানা তৃতীয় জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘নাগরিক দেবো ভবঃ’ মন্ত্রে সাধারণ মানুষের সেবাই বিজেপির এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
সব মিলিয়ে বাম ও তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের পর বাংলায় বিজেপির এই উত্থান জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি

