মধ্যেপ্রাচ্যেজুড়ে চলা উত্তেজনার মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে একটি জরুরি জ্বালানি-বণ্টন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দক্ষিণ–পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের (আসিয়ান) নেতারা।
আসিয়ান বলছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল হামলার পর সৃষ্ট ‘সুদূরপ্রসারী’ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় এই জোট ‘ঐক্যবদ্ধ’। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ মূলত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আসিয়ান অর্থনৈতিক মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি লাইভস্ট্রিম করা সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপাইনের বাণিজ্য সচিব ক্রিস্টিনা রোক বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইতোমধ্যেই আসিয়ানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো বিষয়ে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যা উত্তরণে সমন্বিত আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। আমরা বাণিজ্য উন্মুক্ত ও অনুমানযোগ্য রাখব।
আসিয়ান অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাসহ বিধিনিষেধমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা এড়াতে সম্মত হয়েছে। অনিশ্চয়তার সময়ে অনুমানযোগ্যতাই স্থিতিশীলতা। আর স্থিতিশীলতা শুরু হয় সীমান্তজুড়ে পণ্যের চলাচল অব্যাহত রাখার মাধ্যমে। ফিলিপাইন চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় বিশেষ বৈঠক করেছে। কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, এতে জলপথ দিয়ে এশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি তেল এবং এই অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ এলএনজি আমদানি হয়।
একটি যৌথ বিবৃতিতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক মন্ত্রীরা তুলে ধরেছেন কীভাবে ‘ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও পরিবহন খরচ খাদ্য ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সারের বর্ধিত মূল্য এবং সার সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্নের কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
রোক ম্যানিলায় সাংবাদিকদের বলেন, আসিয়ান “বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে শক্তিশালী ও ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে। যার মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কানাডার সঙ্গে চুক্তিগুলোর মানোন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সংযোগ করার জন্য পরিকল্পিত একটি উদ্যোগ, আসিয়ান পাওয়ার গ্রিডের বিষয়ে আরও বেশি তৎপরতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলার প্রচেষ্টায়, আসিয়ান পেট্রোলিয়াম নিরাপত্তা সংক্রান্ত আসিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতেও চাপ দিচ্ছে।
রোক বলেন, সমন্বিত জরুরি জ্বালানি ভাগাভাগি এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হলে সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া সক্ষম করার জন্য আমেরিকান পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল রিকাফোর্ট বলেন, একটি আন্তঃসরকারি ফোরাম হিসেবে আসিয়ান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য চাপ দেওয়ার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
আগামী সপ্তাহে ফিলিপাইন সেবুতে ২০২৬ সালের আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের আতিথ্য দেবে। সভায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে সহযোগিতা করার এবং একটি অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পাবে।
সূত্র: আরব নিউজ।

