নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহারের দায়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের(এফএ) চার বছরের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চেলসির ফরোয়ার্ড মিখাইলো মুদ্রিক কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস)-এ আপিল করেছেন।
ডোপিং টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পর মুদ্রিক নভেম্বর ২০২৪ থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেননি এবং তার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। চার বছরের নিষেধাজ্ঞার শর্তানুযায়ী, তিনি ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দলে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবেন না। কিন্তু সিএএস-এ করা আপিল সফল হলে, ২৫ বছর বয়সী খেলোয়াড় সম্ভবত আগামী বছর মাঠে ফিরতে পারবেন।
জানা গেছে, এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে আপিলটি জমা দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএএস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিএএস নিশ্চিত করছে যে তারা এফএ-এর বিরুদ্ধে মিখাইলো মুদ্রিকের করা একটি আপিল গ্রহণ করেছে। পক্ষগুলো বর্তমানে লিখিত আবেদনপত্র বিনিময় করছে এবং শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এই মামলার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং এফএ এই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে জানা গেছে, মুদ্রিকের শরীরে মেলডোনিয়াম নামক ওষুধের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই ওষুধটি ব্যক্তির কর্মশক্তি বাড়াতে পারে।
এফএ-এর ডোপিং-বিরোধী নীতির ৭৭ নং ধারা অনুযায়ী, যদি লঙ্ঘনটি কোনো অনির্দিষ্ট পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় অথবা কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং এফএ প্রমাণ করতে পারে,লঙ্ঘনটি ইচ্ছাকৃত ছিল, তাহলে চার বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তার নিষেধাজ্ঞার সময় জারি করা এক বিবৃতিতে মুদ্রিক বলেছিলেন, পজিটিভ নমুনার বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত’ ছিল এবং তিনি ‘কোনো ভুল করেননি’। তার চেলসি আরও জানিয়েছে, মুদ্রিক ‘কখনই জেনেশুনে কোনো নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করেননি’।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে মুদ্রিত শাখতার দোনেৎস্ক থেকে চেলসিতে যোগ দেন। তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩টি ম্যাচে ১০টি গোল করেছেন, কিন্তু সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আগে দলে খুব কমই নিয়মিত জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন।
চেলসি এই খবরের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং বলেছে তাদের প্রক্রিয়াটিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। এফএ জানিয়েছে, তারা চলমান কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

