ভারতে ক্ষমতাসীন দলকে ব্যঙ্গ করে গড়ে ওঠা অনলাইন রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপক দাবি করেছেন, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি অচল হয়ে গেছে।
শনিবার (২৩ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অভিজিত দীপক আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং সিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজও হ্যাক করা হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তিনি এক বক্তব্যে কিছু যুবককে ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অবশ্য তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, মন্তব্যটি ছিল জাল সনদধারীদের উদ্দেশ্যে, দেশের তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে নয়।
তবে এই ঘটনার জের ধরেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে তোলেন অভিজিত দীপক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিল রেখে এই নামকরণ করা হয়।
মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সিজেপি। দীপকের দাবি, সাইবার হামলার আগে তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজের অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও বেশি। একই সময়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
শুধু অনলাইন ব্যঙ্গ নয়, আন্দোলনটি ইতোমধ্যে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেছে সিজেপি, যেখানে ইতোমধ্যে ৬ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। সম্প্রতি সরকারি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটেও এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
অভিজিত দীপক বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা সাধারণ মানুষকে তেলাপোকা বা পরজীবী মনে করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান, নোংরা পরিবেশেই তেলাপোকার জন্ম হয়।’
তবে ওয়েবসাইট বন্ধ ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা

