সব মহলেই এখন একই গুঞ্জন ট্রাম্পের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ২.০’ কি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দেবে? ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ওভাল অফিসের ড্রয়ার থেকে পুরোনো সেই আব্রাহাম চুক্তি নতুন করে বের করতেই পাকিস্তান এক চরম উভয়সংকটের মুখে পড়েছে। একদিকে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচার জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রলোভন ও ভূ-রাজনৈতিক লাভ, অন্যদিকে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক ও আদর্শিক অনড় অবস্থান।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে এই যুদ্ধের অবসান সবার জন্যই স্বস্তির হতে পারত। পাকিস্তানও নিজেকে এই শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে দাবি করে আংশিক কৃতিত্ব নিতে মুখিয়ে ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের এই নতুন আঞ্চলিক রূপরেখা পুরো হিসাবটাই জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান যদি শান্তির এই টেবিলে নিজের আসন নিশ্চিত করতে চায়, তবে ফিলিস্তিন সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান ছাড়াই তেল আবিবকে স্বীকৃতি দিতে হবে, যা দেশটির বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের মৌলিক আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো চুক্তিতে ইসলামাবাদ অংশ নেবে না এবং ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া কোনো কিছুই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে যদি সুন্নি আরব বিশ্ব ট্রাম্পের চাপে ইসরায়েলের দিকে আরও একধাপ ঝুঁকে পড়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের পর এখন সবার নজর সৌদি আরবের ওপর। রিয়াদ হচ্ছে এই পুরো খেলার ‘সুইং ফ্যাক্টর’। ইসলামের পবিত্রতম দুই মসজিদের খাদেম এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে সৌদি আরব যদি কোনোভাবে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলে, তবে পাকিস্তানের পক্ষে সেই স্রোতের বিপরীতে হাঁটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তেমনটা হলে ইসলামাবাদ একঘরে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদির মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং এর পেছনে থাকা চীনের ছায়া রিয়াদকে মার্কিন চাপ প্রতিরোধের কিছুটা হলেও সুযোগ দিচ্ছে। সৌদি আরব যতদিন এই চুক্তি থেকে দূরে থাকবে, পাকিস্তানের অস্বস্তিও ততটাই কমবে।
আর এই পুরো খেলায় ভারত বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, কারণ তেল আবিব এবং উপসাগরীয় দেশ; উভয় শিবিরের সাথেই দিল্লির চমৎকার কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দিনশেষে, সৌদি আরব যদি ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। কিন্তু রিয়াদ যদি হাত মেলায়, তবে পাকিস্তানকে হয় দেশের ভেতরে তীব্র জনরোষের মুখোমুখি হতে হবে, না হয় বিশ্বমঞ্চে একাকীত্বের চরম মূল্য চোকাতে হবে।
এনডিটিভির বিশ্লেষণ

