টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট জনপ্রিয়তার পর বিশ্বজুড়ে ফ্রাঞ্চাইজিভিক্তিক বেশ কিছু টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বর্তমানে আইপিএল, বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।
ফ্রাঞ্চাইজিভিক্তিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অনেক ক্রিকেটার টেস্ট থেকে অবসর কিংবা খেলা কমিয়ে দিয়েছেন।অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি মার্ক টেলর এর মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
মার্ক টেলররা যখন ক্রিকেট খেলতেন তখন সবকিছুই ছিল ধৈর্য এবং ইনিংস গড়ার খেলা। কিন্তু এখন সবকিছুই হয়ে গেছে প্রথম বল থেকেই আক্রমণাত্মক হওয়া। মার্ক টেলর মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন এতটাই ভিন্ন যে এটিকে প্রায় একটি আলাদা খেলা বলে মনে হয়, ভদ্রলোকদের খেলা নয়।
মার্ক টেলরদের সময় ক্রিজে টিকে থাকাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক টেলর তার শক্তিশালী কৌশল এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিজে থাকার ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন। খেলোয়াড়দের প্রথমে নিজেদের উইকেট রক্ষা করতে, ক্রিজে সময় কাটাতে এবং তারপর ধীরে ধীরে রান বাড়াতে শেখানো হতো।
কিন্তু আজকের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সম্পূর্ণ বিপরীত। খেলোয়াড়দের শুরু থেকেই বড় শট খেলার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ব্যাটারদের কাছ থেকে দ্রুত রান করা, ঝুঁকি নেওয়া এবং স্কোরবোর্ড সবসময় সচল রাখার প্রত্যাশা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে টেইলর উল্লেখ করেছেন, মনোযোগ এখন ‘আউট না হওয়া’ থেকে ‘যত দ্রুত সম্ভব রান করার দিকে সরে গেছে।মার্ক টেলর স্বীকার করেছেন যে আজকের টি-টোয়েন্টি যুগে তিনি একজন ভিন্ন খেলোয়াড় হতেন।
টেলর মনে করেন, যদি তিনি আধুনিক যুগে বড় হতেন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন খেলোয়াড় হতেন। তাকে হয়তো পাওয়ার হিটিং এবং আগ্রাসী ব্যাটিং শিখতে হতো।
চ্যানেল নাইনের ‘ওয়াইড ওয়ার্ল্ড অফ স্পোর্টস’ ইউটিউব চ্যানেলের ‘টার্ন ইট আপ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মার্ক টেলর বলেন: আমি (সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে) হ্যাঁ বলতে চাই। দেখুন, আমি মনে করি, যদি এই খেলা খেলেই আমি বড় হতাম, তাহলে আমাকে মানিয়ে নিতেই হতো। আজকাল এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ দক্ষতা, ভিন্ন ধরনের দক্ষতা রয়েছে। এখন মূলত হিটিং স্কিলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিকশিত হওয়ার সময় যদি আমাকে এই খেলাই খেলতে হতো, তাহলে অবশ্যই আমি মিডউইকেটের ওপর দিয়ে বল সজোরে মারার চেষ্টা করতাম। নিউ সাউথ ওয়েলসে আমি যে খেলা শিখেছিলাম, তা ছিল ক্রিজে টিকে থাকা। আউট হয়ো না, তাহলে হয়তো কিছু রান করতে পারবে।
আইপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রবণতা আরও স্পষ্ট। বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানই ১৫০-এর বেশি থেকে প্রায় ২০০ পর্যন্ত খুব উচ্চ স্ট্রাইক রেটে রান করছেন। এটি দেখায় যে দীর্ঘ ইনিংসের চেয়ে দ্রুত রান করাকে এখন কতটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মার্ক টেলর মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খেলোয়াড়ের সংখ্যা একই, কিন্তু খেলাটা ভিন্ন। এটাকে ক্রিকেট বলাই উচিত না, কারণ এটা একটা ভিন্ন খেলা। খেলোয়াড়ের সংখ্যা একই, এখনও ১০ বার আউট হওয়ার সুযোগ আছে এবং একটি দলকে অলআউট করতে হয়, কিন্তু ব্যাট করার জন্য পাওয়া যায় মাত্র ২০ ওভার। আউট হওয়ার দায়বদ্ধতাটা এখানে নেই, যেটা এক সময় ক্রিকেটের মূল আকর্ষণ ছিল।

