লিগ ওয়ানের শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধরনের এক অঘটনের সাক্ষী হলো পার্ক দেস প্রিন্সেস। ব্রাজিলিয়ান বিস্ময় বালক এনদ্রিকের জাদুকরী পারফরম্যান্সে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ২-১ গোলে হারিয়েছে অলিম্পিক লিঁও।
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা এই তরুণ তুর্কি নিজে এক গোল করার পাশাপাশি অন্যটিতেও রেখেছেন প্রত্যক্ষ অবদান। রবিবার রাতে এই হারের ফলে লিগ ওয়ান শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে কিছুটা হোঁচট খেল লুই এনরিকের দল।
ক্লান্তি ভর করেছে পিএসজিকে:
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গত সপ্তাহে দুই লেগে লিভারপুলকে হারায় পিএসজি। সেই ক্লান্তি দূর করতে লুই এনরিকে মূল দলের বেশ কিছু তারকাকে এই ম্যাচে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। যার প্রভাব মাঠে ছিল স্পষ্ট। পিএসজির ফরোয়ার্ড গনসালো রামোস প্রথমার্ধেই পেনাল্টি মিস করেন, অন্তীম মুহূর্তে খভিচা কভারাৎস্খেলিয়া একটি গোল করে কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন।
লুই এনরিকের দলের জন্য এটি এই মৌসুমে লিগ ওয়ানে পঞ্চম পরাজয়। বর্তমানে তারা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লঁসের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে আছে। যদিও তাদের হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে। আগামী সপ্তাহে নঁতের বিপক্ষে স্থগিত হওয়া ম্যাচটি জিতলে তারা চার পয়েন্ট এগিয়ে যাবে।
লুই এনরিকের কথা:
‘আপনারা একটি জমজমাট লিগ চেয়েছিলেন, এখন সেটাই পাচ্ছেন। লঁস টানা জিতছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াইটা কঠিন হবে। এটাই ফুটবল, এখন আমাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রতি তিন দিন অন্তর ম্যাচ খেলতে হবে এবং সেই চাপ সামলানোর ক্ষমতা রাখতে হবে।’
লিওঁর ফেরা:
২০২০ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়ার পর দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অনুপস্থিত লিওঁ। এই জয়ের ফলে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতায় ফেরার দৌড়ে তারা বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল। পাওলো ফনসেকার দল এখন ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে লিলের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
এনড্রিকের চমক:
রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে আসা এই তরুণ তুর্কি ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গোলকিপার মাতভে সাফোনভকে পরাস্ত করে দলকে লিড এনে দেন। জানুয়ারিতে যোগ দেওয়ার পর এটি লিওঁর হয়ে তাঁর সপ্তম গোল। ১৮ মিনিটে তাঁরই বাড়ানো বল থেকে আফনসো মোরিরা গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। কোচ পাওলো ফনসেকা এনড্রিকের প্রশংসা করে বলেন,
‘এনড্রিক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে, তবে রক্ষণে সে যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে তাতে আমি বেশি খুশি।’
দেম্বেলেও পারলেন না:
বিরতির ঠিক আগে লুকাস হার্নান্দেজ ফাউলের শিকার হলে পিএসজি পেনাল্টি পায়, কিন্তু রামোসের শটটি সেভ করে দেন লিঁও গোলকিপার। ৫৯ মিনিটে ভিতিনিয়া চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তাঁর বদলি হিসেবে নামা উসমানে দেম্বেলের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। যোগ করা সময়ে দারুণ গোল করেন কাভারাৎস্খেখেলিয়া। যদিও তা হারের গ্লানি মোচনের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

