টিকাদানের ফলে বছরে ৯৪ হাজার শিশুর মৃত্যু রোধ

0
টিকাদানের ফলে বছরে ৯৪ হাজার শিশুর মৃত্যু রোধ

গত দুই দশকে ৫ কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ায় বছরে ৯৪ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ৮১.৫% হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। যা বাংলাদেশ, নেপাল, রুয়ান্ডা, ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও মালাউইসহ ছয়টি দেশে শিশু মৃত্যুহার কামিয়ে আনবার রেকর্ড অর্জন করেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. নিজামুদ্দিন আহমেদ, ডা. মো. শফিকুল ইসলাম রাজিব, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড সাপ্লাই, ইপিআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ডা. নাসরিন আক্তার, নির্বাহী পরিচালক, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে টিকাদানের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে এবং মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে।

তারা আরও জানান, টিকায় বিনিয়োগকৃত প্রতি ১ ডলারে ২৫.৪ ডলার রিটার্ন আসে, যা প্রমাণ করে টিকা স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ (সূত্র স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়/ইউনিসেফ টিকাদান বিনিয়োগ কেস ২০২৩)। বাংলাদেশ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতক ধনুষ্টঙ্কার (এমএনটি) নির্মূল এবং হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। কিশোরী মেয়েদের মধ্যে ৯৩% এইচপিভি টিকা কভারেজ অর্জিত হয়েছে। যা মহিলাদের সার্ভিকাল ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।বাংলাদেশ সরকার আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ সাল থেকে টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে নতুন টিকা টিসিভি ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে এবং ২০২৬ সালে আরও নতুন টিকা ইপিআই কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ‘ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ অ্যাডভোকেসি প্রোজেক্ট এর আওতায় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) এর সহায়তায় দেশের বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, প্রতিবন্ধকতা এবং করণীয় বিষয়ে এই প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়।

ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ জানানো হয়, টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দকৃত জনবলের প্রায় ৪০% পদ এখনও শূন্য।  ৪৫ জেলায় টিকাদান কর্মী নিয়োগ এখনও সম্পন্ন হয়নি। জেলা পর্যায়ের কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের ৫৩% পদ শূন্য রয়েছে। বাজেট বরাদ্দে দেরি এবং ৫ম এইচপিএনেসপি বাতিল এবং তার পরিবর্তে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে যা এখনও অনুমোদিত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here