টানা ১৪ দিনের স্টিম বাথে মিলবে ব্যায়ামের মতো জাদুকরী উপকারিতা

0
টানা ১৪ দিনের স্টিম বাথে মিলবে ব্যায়ামের মতো জাদুকরী উপকারিতা

আজকের দিনে সুস্থ থাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে! ঠাণ্ডা পানির থেরাপি বা ক্রায়োথেরাপির উপকারিতা অনেকেই জানেন, তবে চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত স্টিম বাথও (সউনা) আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে পারে। মাত্র ১৪ দিন নিয়মিত সউনা বাথ (স্টিম বাথেরই এক বিশেষ ধরন) নিলে শরীরের ভেতর এক বিশেষ ধরনের ইতিবাচক সাড়া তৈরি হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হর্মেটিক ইফেক্ট বলা হয়। 

সউনা আসলে শরীরের ওপর মৃদু ও নিয়ন্ত্রিত চাপ, যা শরীরকে ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিরোধী করে তোলে। ব্যায়াম, ফাস্টিং বা ঠান্ডা পানির স্নানের মতো সউনা বাথও এই একই প্রক্রিয়ায় কাজ করে। সাধারণ বাষ্পীয় গোসলে তীব্র তাপ ব্যবহার করা হয়, যা শরীরের হরমোন ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এটি মানবদেহে গ্রোথ হরমোনের মাত্রা প্রায় ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সঙ্গে নরঅ্যাড্রেনালিন, ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের মতো হরমোনগুলোর নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, এটা মানসিক অবসাদ দূর করে মনকে শান্ত ও ফুরফুরে রাখতে সাহায্য করে।

সউনা বাথের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো, এটি কোনো শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই মানবদেহে মাঝারি ধরনের অ্যারোবিক এক্সারসাইজের মতো কাজ করে। সউনা কক্ষে বসার পর সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পেলেও নিয়মিত অভ্যাসের ফলে ধীরে ধীরে মানুষের বিশ্রামের সময়কার হৃদস্পন্দন কমে আসে। এটি রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরের লিম্ফ্যাটিক বা লসিকা তন্ত্রকে সচল রাখে। এটাই মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মূল ভিত্তি। 

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, অ্যাজমার প্রকোপ কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও সউনা বাথের জুড়ি নেই। এমনকি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে চার থেকে সাত দিন বাষ্পীয় গোসল করলে যেকোনো কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এছাড়া এটি শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথা ও প্রদাহ দূর করে এবং সোরিয়াসিসের মতো ত্বকের জটিল সমস্যায় দারুণ আরাম দেয়।

সউনা বাথ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগের তীব্রতা কমাতেও সাউনা বাথ চমৎকার ভূমিকা রাখে। এটি শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সুবিধা প্রদান করে। এই ধরনের বাষ্পীয় গোসলের ফলে শরীরের ‘অটোফেজি’ প্রক্রিয়া উদ্দীপ্ত হয়, যা কোষের ভেতরের পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিনগুলোকে পুনর্প্রক্রিয়াজাত করে ত্বককে করে তোলে তারুণ্যময় ও সতেজ। 

তবে সউনা বাথ নেয়ার সময় একটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম এবং কিছুটা পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করলেও পটাশিয়াম গ্রহণ করে চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এই ধরনের গোসলের সময় শরীর থেকে সোডিয়াম কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ভালো লাগতে পারে, তবে যারা দীর্ঘ সময় রোজা রাখছেন বা কিটোজেনিক ডায়েট করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। তাই সউনা বাথ থেরাপি নেয়ার পাশাপাশি শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here