জুলাই শহীদদের কবরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
জুলাই শহীদদের কবরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গাইবান্ধায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কবরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এর প্রতিবাদ জানান ছয় শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহিনা বেগম। তিনি বলেন, গাইবান্ধা জেলার ৬টি জুলাই শহীদের কবর পাকা করার কাজ দীর্ঘদিন আগে শুরু হলেও, এখন পর্যন্ত কোনোটিই সম্পূর্ণ হয়নি। একাধিকবার ঠিকাদার ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মেহেদী হাসানকে বলা হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, মেহেদী হাসান সব বিল তুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি আশ্বাস প্রদান করলেও, এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

শাহিনা বেগম বলেন, গত ২ জুন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি জেলা শাখার ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে সদস্য সচিব রাহাত ইবনে শহীদ জুলাই আন্দোলনের শহীদ সজলকে চেনেন না বলে বক্তব্য দিয়ে শহীদ পরিবারের প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, জেলায় জুলাই শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন কমিটি গঠিত হয়েছে। সাবেক জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদের সভাপতিত্বে শহীদ পরিবারের ওই কমিটিতে কে আছে তাও তারা জানেন না। পরবর্তীতে জানতে পারেন শহীদ সজলের মা শাহিনা বেগমের নাম রয়েছে কিন্তু কোন পদে রয়েছে তাও জানা নেই। কোনো দুর্নীতি অমিয়ম হলে শহীদ পরিবারদের সদস্যদের দায়ী করতে পারবে না।

শাহিনা বেগম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্তের সঙ্গে বেমাইনী করে গাইবান্ধায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছেন এনসিপির নেতারা। এজন্য তারা এনসিপিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। শহীদ পরিবারগুলোর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মেহেদী হাসান বলেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তি নেই। প্রকল্পের সব কাজ এখনও শতভাগ সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসন ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ শাকিনুরের স্ত্রী শারমিন আক্তার, শহীদ আরিফুলের স্ত্রী হালিজা বেগম, শহীদ সুজনের স্ত্রী লাইজু বেগম, শহীদ নাজমুলের মা গোলেভান বেগম, শহীদ জুয়েল রানার মা জমিলা বেগম ও শহীদ সজলের বাবা খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here