জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদ (জেপিআরপি) রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। গত বুধবার (১০ জুন) এই কমিটি গঠন করা হয়।
দেশের প্রত্নসম্পদ, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণে সচেতন নাগরিক ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজশাহীর আমানা ফান ভিলেতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেপিআরপি-এর উদ্যোগে রাজশাহী বিভাগীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও মতবিনিময় এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সিদ্ধাচার্য ইউরী বজ্রমুনি (বিশ্বরেকর্ডধারী সুপার হিউম্যান) প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক দিক নির্দেশনামূলক প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড,, ইফতখোরুল আলম মাসুদকে আহ্বায়ক ও কবি মুস্তাক রহমানকে সদস্যসচিব করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। সভায় রাজশাহী হেরিটেজ-এর প্রেসিডেন্ট মাহাবুব সিদ্দিকি সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রত্নসম্পদ রক্ষা পরিষদের অতীত কর্মকান্ড ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিধি নিয়ে মূল উপস্থাপন করেন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিসকভারি চ্যানেলখ্যাত বিশ্বরেকর্ডধারী সুপার হিউম্যান গ্র্যান্ডমাস্টার সিদ্ধাচার্য ইউরী বজ্রমুনি। তিনি মন-দৈহিক সাধনা কেন্দ্র ‘সত্যপণ জানা বিদ্যাপীঠ’- এরও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
ড. ইফতখোরুল আলম মাসুদ রাজশাহী বিভাগসহ সারাদেশে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতার উপর জোর দেন। মুস্তাক রহমান বরেন্দ্র অঞ্চলে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্নসম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। উপস্থিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফওজিয়া ফ্লোরা তার বক্তব্যে সকলকে সমেবেতভাবে প্রত্নসম্পদ রক্ষায় সোচ্চার হতে অনুরোধ জানান।
রাজশাহী বিভাগের ছয়টি জলো থকেে প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থতি ছিলেন। সভাপতি তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেন যুগে যুগে আমরা দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগের সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করি।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০৭ সালে ফ্রান্সের গিমে মিউজিয়ামে বাংলাদেশ থেকে অমূল্য প্রত্নসম্পদ সরিয়ে নেয়ার যে অশুভ পাঁয়তারা করেছিল তার প্রতিবাদে এম. এ. কে. ইউরী বজ্রমুনি, ৩১ জুলাই, ২০০৭ তারিখে সর্বপ্রথম ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সামরিক জরুরি ধারা থাকা সত্ত্বেও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে দৃঢ় প্রতিবাদ জানান এবং গ্রেফতার হন। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রত্নসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকার বিরোধী মামলা দায়ের করেন। যার ফলে সে যাত্রা বাংলাদেশের মহামূল্যবান প্রত্নসম্পদগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

