চাকরির পরিবর্তে আঙুর চাষে বদলে গেল তিন তরুণের জীবন

0
চাকরির পরিবর্তে আঙুর চাষে বদলে গেল তিন তরুণের জীবন

চাকরির পেছনে না ছুটে ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত, আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দিল তিন বন্ধুর জীবন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামের তিন তরুণ এখন আঙুর চাষে দেখাচ্ছেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। মাত্র ২ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে পুরো এলাকায়।

আল আমিন, তানিম আহম্মেদ ও আনাস হোসেন- একই গ্রামের ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঙুর চাষের নানা কৌশল শিখে প্রথমে উদ্যোগ নেন আল আমিন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহের মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও নাটোর থেকে বাইকুনুর, ভ্যালেজ ও মার্সেল ফোর্স জাতের বিদেশি আঙুরের ৪০৮টি চারা সংগ্রহ করেন।

এরপর ২ বিঘা জমিতে শুরু হয় তাদের স্বপ্নের চাষ। মাত্র ১১ মাসের পরিচর্যায় বাগানে থোকায় থোকায় পাকা আঙুর ধরে- যা স্থানীয়দের কাছে একপ্রকার ‘আঙুর বিপ্লব’ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি আঙুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। এ মৌসুমে তাদের বাগান থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

উদ্যোক্তা আল আমিন জানান, শুরুতে অনেকেই তাদের ‘পাগল’ বলেছিল। কিন্তু তারা থেমে যাননি। আধুনিক পদ্ধতি ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে দেশেও সফলভাবে আঙুর চাষ সম্ভব- এটাই তারা প্রমাণ করতে চেয়েছেন।

বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের এমন সফল উৎপাদন সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এতে একদিকে যেমন স্থানীয় চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে আমদানিনির্ভরতা কমবে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান জানান, দেশের আবহাওয়া এখন অনেক নতুন ফল চাষের জন্য উপযোগী হয়ে উঠছে। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে আঙুর চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here