গ্রামীণ অর্থনীতিতে রূপান্তরের মডেল আরএমটিপি: পিকেএসএফ

0
গ্রামীণ অর্থনীতিতে রূপান্তরের মডেল আরএমটিপি: পিকেএসএফ

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে পিকেএসএফের ‘রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি)’। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে সাফল্যের মাধ্যমে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোগের ভূমিকা আরও সুসংহত করেছে।

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ও ডানিডার সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত ছয় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। পিকেএসএফ ভবন-১-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। প্রধান অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো। স্বাগত বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব—আরএমটিপি তা প্রমাণ করেছে। তিনি জানান, এ প্রকল্পের সফলতার ধারাবাহিকতায় ইফাদের অর্থায়নে পিকেএসএফ ‘গ্রিন’ নামের আরেকটি প্রকল্প শিগগিরই শুরু করবে।

বিশেষ অতিথি ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো বলেন, আরএমটিপি শুধু একটি সফল প্রকল্প নয়, এটি বৃহৎ পরিসরে একটি কার্যকর ধারণার বাস্তব উদাহরণ। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে তা টেকসই পরিবর্তন আনে।

পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, আরএমটিপি গ্রামীণ অর্থনীতিতে টেকসই রূপান্তরের একটি সফল মডেল। প্রকল্পের সফল উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

স্বাগত বক্তব্যে মো. ফজলুল কাদের বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার সংযোগ, ব্র্যান্ডিং ও সনদায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পিকেএসএফ ভবিষ্যতেও দক্ষতা উন্নয়ন ও ঝুঁকি নিরসনে কাজ করবে।

প্রকল্প উপস্থাপনায় জানানো হয়, ৯০টি কৃষিভিত্তিক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৯ জন সদস্য এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের কৃষিপণ্য উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ, আয় বেড়েছে ৪৯ শতাংশ এবং মুনাফা বেড়েছে ৪১ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সহায়তাপ্রাপ্ত চারজন উদ্যোক্তা নিজেদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তারা জানান, এ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন, আয় ও বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা পেয়ে তারা চাকরিপ্রার্থী থেকে উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত পনির, গরুর মাংসের আচার ও বিভিন্ন সবজি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here