খরায় যৌবন হারিয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ, প্রাণহীন পাহাড়ি ঝর্ণা। শুকিয়ে গেছে খাল, বিল ও কূপ। সারাদেশের সাথে পাল্লা দিয়ে পার্বত্যাঞ্চলেও বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃষ্টি না থাকা এবং বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গরমে তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরমে অস্বস্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
অন্যদিকে, হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় নৌপথে রাঙামাটি ৬টি উপজেলায় বন্ধ লঞ্চ চলাচল। যাতায়াতের এখন একমাত্র উপায় ছোট নৌকা ও স্পিড বোট, কান্ট্রি বোট (ইঞ্জিন চালিত বোট)।
এদিকে, যাত্রীদের মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌ-যানের বাড়তি ভাড়া। তবুও এ বিষয়ে কোন নজরদারি নেই সংশ্লিষ্টদের। তাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. মঈনুউদ্দীন সেলিম জানান, খরায় পুড়ছে পাহাড়, বাড়ছে তাপ। কমছে হ্রদের পানি। কাপ্তাই হ্রদের বুকে জেগে উঠে হাজারো ডুবোচর। বৃহত্তর হ্রদ এখন ছড়ায় পরিণত হয়। তাই নৌ-পথে বড় লঞ্চগুলো চলাচল করতে পারছে না, ডুবোচরে আটকা পড়ছে।
এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে রাঙমাটির সদরের সাথে নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, ছোট হরিনা-বড় হরিনা, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ যোগাযোগ। তাই তীব্র নৌ সংকটে পরেছে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ উপজেলাবাসী। কাপ্তাই হ্রদে পানি না বাড়লে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করা যাবে না।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন রাঙামাটি সদরের সাথে ৬টি উপজেলার লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়িয়েছে ছোট নৌযানের ব্যবসায়ীরা। তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পরেছে স্থানীয় উপজেলাবাসী।
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মো. মাহামুদ বলেন, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ার কারণে ঘাটে লঞ্চ আসছে না। তাই এ উপজেলায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ চলছে। স্পিড বোটে একদিকে বাড়তি ভাড়া, অন্যদিককে ডুবোচরে আটকে পড়া; ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।
একই সাথে পাল্লা দিয়ে রাঙামাটিতে বেড়েছে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা। তীব্র তাপদাহে হাপিয়ে উয়ে উঠছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। জুমের ক্ষেতে কাজ করতে পারছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা। সূর্যের তাপের সাথে বেড়েছে ভ্যাপসা গরম।
রাঙামাটি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি। টানা দুই সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। সামনে আর বৃদ্ধিপাবে এর প্রভাব। প্রায় প্রতিদিন রাঙামাটিতে সর্বোচ্চ ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
রাঙামাটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপাপ্ত কর্মকর্তা ক্যা হ্ল চিং মারমা বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তাই গরমের প্রভাবটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্ভাব্য কাল বৈশাখী ঝড়ের সর্তক সংকেত দেওয়া হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে বাতাসের সাথে বজ্রপাতের আংশকা করা হচ্ছে। তাই সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।

