নিউ সাউথ ওয়েলস এবং কুইন্সল্যান্ড ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) এর বেসরকারীকরণে অনুমোদন দিতে প্রস্তুত নয়। এর ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে, সব রাজ্যের সর্বসম্মত সমর্থন ছাড়াই তারা এই পদক্ষেপে অগ্রসর হবে কি না।
সিএ রাজ্যগুলোকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যে জানাতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তারা বেসরকারীকরণের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার পক্ষে সমর্থন জানাবে কি না। এই পরবর্তী ধাপের মধ্যে ক্লাবগুলোর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত। এর আগে অনুমান করা হয়েছিল যে, বিবিএল-এর সম্পূর্ণ বেসরকারীকরণের মাধ্যমে ৬০০-৮০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হতে পারে।
কুইন্সল্যান্ড স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে একটি বোর্ড সভা করেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা সিএ-এর কাছে বেশ কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্ট করবে। নিউ সাউথ ওয়েলসের অবস্থান বর্তমান বেসরকারীকরণ মডেলের বিরুদ্ধে আরও দৃঢ় এবং এটি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও সিইও লি জার্মন বিবিএল-এর প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিডনিতে সাংবাদিকদের জার্মন বলেন, আমাদের অবস্থান হলো, আমরা এখনও মনে করি না যে বিবিএল ক্লাবগুলো বিক্রি করা এক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ। আমি আবারও বলতে চাই যে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আমরা দৃঢ়ভাবে একমত যে আমাদের বিবিএল-এ বিনিয়োগ করতে হবে। বিবিএল-এর প্রসার ঘটাতে হবে, আমাদের সেরা খেলোয়াড়দের বিবিএল-এ খেলাতে হবে এবং এমন একটি সময়ে তা করতে হবে যা এর জন্য সহায়ক হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি কিছু স্ব-অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি করার আরেকটি উপায় আছে এবং গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে আমরা সেই বিকল্প কৌশল নিয়ে কাজ করতে সক্ষম হয়েছি। গতকাল আমরা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে বিষয়টি ভাগ করে নিয়েছি, তাই আমরা আশা করব, এটি এখন একটি বিকল্প কৌশল হিসেবে আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে।
সিএ-র সিইও টড গ্রিনবার্গ বলেন, বোর্ড সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে। গ্রিনবার্গ আরও বলেন, বিবিএল ক্লাবগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের ওপর আমরা রাজ্যগুলোর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি এবং এই মডেল সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। এই প্রক্রিয়াটি সম্মানজনক ও সহযোগিতামূলক এবং এতে জড়িত সকলের মূল বিবেচ্য বিষয় হলো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের সর্বোত্তম স্বার্থ।
জার্মন সিএ-কে বেসরকারীকরণের বর্তমান প্রচেষ্টা স্থগিত করতে অথবা অন্ততপক্ষে বিকল্প মডেলগুলোর সমান্তরাল মূল্যায়ন চালানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। এনএসডব্লিউ বিশ্বাস করে, টিকিটিং, স্পনসরশিপ এবং বাজি ও জুয়া থেকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে— যার মধ্যে শেষেরটি বিতর্কিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ করে জুয়া সংস্কার নিয়ে অস্ট্রেলীয় সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে।
জার্মন বলেন, কিছু বিকল্প অন্যদের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে, কিছু অন্যদের চেয়ে বেশি অর্জনযোগ্য হবে, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের ক্লাবগুলো সরাসরি বিক্রি না করে, এই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে বিবিএল-কে উন্নত করা যায়।
আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে বাইরের বিনিয়োগ আসা, যা এখন আমাদের ক্রিকেট পরিচালনা এবং খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ায় আরও বেশি মতামত যুক্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও ভালোভাবে কাজ করছে।
সুতরাং আমরা এখানে কিছু ঝুঁকি দেখতে পাচ্ছি, যা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াও স্বীকার করে। আমার মনে হয় আমরা সবাই এটা বুঝি যে, এই ধরনের বিনিয়োগ আনার একটি ঝুঁকি হলো, আপনি হঠাৎ করে এমন বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছেন, যাদের লক্ষ্য খেলাটি কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে রাজ্যগুলো বা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্যের সাথে মিলবে না।
নিউ সাউথ ওয়েলস এর অবস্থানের একটি অতিরিক্ত দিক হলো, এটি তাদেরকে সরাসরি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া-এর চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ডের বিপক্ষে দাঁড় করিয়েছে। যিনি বেসরকারীকরণের জোরালো সমর্থক এবং নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এর মনোনীত সদস্য। অন্যদিকে নিউ সাউথ ওয়েলস এর চেয়ারম্যান জন নক্স হলেন অ্যারিয়াস ম্যানেজমেন্ট এর একজন অংশীদার ও স্থানীয় প্রধান। যার টেন্ট রয়েটস ইন দ্যা হান্ডেন্ড্র-এ ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বোর্ডে নিযুক্ত করা হয়েছে।
গত মাসে যখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং রাজ্যগুলো বৈঠকে বসে, যার ফলস্বরূপ এই সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। তখন এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সব রাজ্যের সম্মতি ছাড়াই বেসরকারীকরণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি বিকল্প ছিল। যদিও সেটি কীভাবে কাজ করবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুব কমই ছিল।
জারমন বলেন, আমি মনে করি একটি মিশ্র মডেল ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে জটিলতা বাড়াবে, যেমনটা আমি মনে করি বহিরাগত মালিকানাও ক্রিকেট ইকোসিস্টেমে জটিলতা বাড়াবে। শুধু বিগ ব্যাশ লিগ এর কথা মাথায় রাখলে, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়। এটি এমন একটি পণ্য যার আমাদের ক্রিকেট পরিবার এবং ইকোসিস্টেমে নিজস্ব এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান রয়েছে।
এদিকে জার্মন ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী মৌসুমে বিবিএল-এর উদ্বোধনী ম্যাচটি চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত হলে সিডনি থান্ডারেরও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে একটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমের জন্য থান্ডার প্রাথমিকভাবে আর অশ্বিনকে চুক্তিবদ্ধ করেছিল, কিন্তু চোটের কারণে তিনি ছিটকে যান।
জার্মন বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের সিডনি থান্ডারের ৫০ শতাংশ সমর্থক চেন্নাই সুপার কিংসকেও সমর্থন করেন। সুতরাং আমরা বিষয়টি নিয়ে কীভাবে ভাবতে পারি, তা থেকে আপনারা একটি ধারণা পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি এটি একটি চমৎকার সুযোগ, এটি করার একটি সম্ভাবনা, কিন্তু আমরা এও জানি যে এটিকে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দিক থেকেই নয়, বরং ভক্তদের সম্পৃক্ততার দিক থেকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হতে হবে। এর অর্থ কি এই যে আমরা এখান থেকে একটি ম্যাচ সরিয়ে নেব? আমরা জানি না, তবে আমরা অবশ্যই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং তাদের এই পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানাই।

