২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে (এসএলসি) হস্তক্ষেপ করে দেশটির সরকার। এরপর আইসিসির বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতা দেখা দেয়।
এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়া সনাথ জয়াসুরিয়া। সবশেষ দেশটির ক্রিকেট বোর্ডকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
টালমাটাল পরিস্থিতিতে আগামীতে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট নেতৃত্ব এবং খেলোয়াড়দের চুক্তি ব্যবস্থা—উভয় ক্ষেত্রেই একটি বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশটির ক্রিকেটরা র্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দলগুলোকে হারানোর জন্য আর কোনো বোনাস পাবেন না।
এছাড়া ম্যাচ হারলে খেলোয়াড়দের শাস্তিরও সম্মুখীন করা হতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি দলের বিপক্ষে ইতিবাচক ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে এসএলসি পুরস্কার ব্যবস্থা সংক্রান্ত এমন কঠোর নিয়মকানুন চালু করতে যাচ্ছে। এর আগে এক থেকে নয় নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে থাকা সব দলকে হারানোর জন্য বোর্ডের পক্ষ থেকে বোনাস পেতেন ক্রিকেটারা।
তবে শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, এসএলসি এমন একটি নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা করছে, যেখানে খেলোয়াড়রা শুধুমাত্র বিশ্বের শীর্ষ-চার শীর্ষ দলের মধ্যে যেকোনো একটি দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলেই বোনাস পাবেন। এমনকি শীর্ষ চার র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও, তা যথেষ্ট হবে না। দেশটির গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, শিগগিরই বোর্ড খেলোয়াড়দের কাছে এমন একটি প্রস্তাব পেশ করবে।
অন্যদিকে আইসিসিরি র্যাঙ্কিংয়ের নিচে থাকা দলের বিপক্ষে ম্যাচ বা সিরিজ জিতলে শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা এসএলসি থেকে কোনো বোনাস পাবেন না। শুধু তাই নয়, সিরিজ হারলেও খেলোয়াড়দের জরিমানা দিতে হতে পারে।
খেলোয়াড়দের জন্য এখনও একটি পুরস্কার ব্যবস্থা চালু আছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কা দল যদি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের কোনো একটিকে হারাতে পারে, বিশেষ করে তাদের দেশের বাইরে, তাহলে খেলোয়াড়রা বিশাল অঙ্কের বোনাস পাবেন।
ঘরের মাঠে শীর্ষ-র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোকে হারানোর জন্যও খেলোয়াড়রা বোনাস পাবেন। তবে ঘরের মাঠের সুবিধার কারণে এই বোনাস তুলনামূলকভাবে কম হবে। শ্রীলঙ্কার গণমাধ্যমে প্রচারিত বোনাসের বিস্তারিত কাঠামো নিচে দেওয়া হলো।
এক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটে অ্যাওয়ে সিরিজ ১ নম্বর দলের বিপক্ষে জয় পেল ১৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯২৫ টাকা, দ্বিতীয় দলের বিপক্ষে ১২ কোটি ২৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা, তৃতীয় দলের বিপক্ষে ৯ কোটি ১৮৭ হাজার ৪৬২ টাকা, চতুর্থ দলের বিপক্ষে জয় পেলে পাবে ৭ কোটি ৩৪৯ হাজার ৯৭০ টাকা করে বোনাস পাবেন।
অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেট হোম সিরিজ ১ নম্বর দলের বিপক্ষে জয় ১২ কোটি ২৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা,৯ কোটি ১৮৭ হাজার ৪৬২ টাকা, তৃতীয় দলের বিপক্ষে ছয় কোটি ১২৪ হাজার ৯৭৫ টাকা এবং চতুর্থ দলের বিপক্ষে জয়ের জন্য পাবেন তিন কোটি ৬২ হাজার ৪৮৭ টাকা।
এছাড়া ওয়ানডে ক্রিকেটে র্যাঙ্কিং এবং হোম/অ্যাওয়ের ওপর নির্ভর করে বোনাসের পরিমাণ ভিন্ন হয়, অ্যাওয়ে জয়ের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ বেশি। এর সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হোম এবং অ্যাওয়ে উভয় ক্ষেত্রেই বোনাস একই, যা ওয়ানডের অ্যাওয়ে-সিরিজের পুরস্কারের সমান।
এদিকে এসএলসি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত মাইলফলক অর্জনেও উৎসাহিত করছে। কোনো খেলোয়াড় যদি তিনটি আন্তর্জাতিক খেলার ফরম্যাটের যেকোনো একটিতে যেকোনো বিভাগে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে পৌঁছান, তাহলে তিনি ২৫ হাজার ডলার বোনাস পাবেন। কোনো খেলোয়াড় যদি আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে দুই থেকে পাঁচ নম্বরের মধ্যে পৌঁছান তাহলে তিনি ২০ হাজার ডলার বোনাস পাবেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণায় পর দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে পরিবর্তনেরর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মনোবল আগের চেয়ে বৃদ্ধি পাবে।

