কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে বিরল প্রজাতির ১৬৩টি কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে লেম্বুরবন এলাকার সৈকতসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত দোকানের নিচে থাকা গর্ত থেকে এসব কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন, বনবিভাগ ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বয়ে বাচ্চাগুলোকে আন্ধারমানিক নদীসংলগ্ন তিন নদীর মোহনায় নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ী মো. বায়েজিদ তার ফিশফ্রাই দোকান খুলতে গিয়ে দোকানের নিচে বালুর মধ্যে ছোট ছোট কচ্ছপের বাচ্চা নড়াচড়া করতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপরা’র সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাচ্চাগুলো উদ্ধার করেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদের উপস্থিতিতে তিন নদীর মোহনায় বাচ্চা কচ্ছপগুলো নিরাপদে অবমুক্ত করেন।
এ সময় বন বিভাগের মহিপুর সদর ক্যাম্পের বিট কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন বিবিসিএফ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম বাচ্চু, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যসহ পরিবেশ ও পর্যটনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপরা’র আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, উদ্ধার হওয়া বাচ্চাগুলো অলিভ রিডলি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের। উদ্ধারকালে ডিমের খোসা ও ছোবলাও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কিছুদিন আগে মা কচ্ছপ সেখানে ডিম পেড়ে গিয়েছিল। প্রাকৃতিকভাবে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হলেও পরিত্যক্ত দোকানের নিচে আটকে থাকায় তারা সাগরে যেতে পারছিল না।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা উপকূল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রাণী রক্ষায় স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপের বাচ্চাগুলো নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় এদের বিচরণ ও প্রজনন টিকিয়ে রাখতে বনবিভাগের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাওছার হামিদ বলেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি ঘটনা। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন মানুষের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

