করের টাকা কী করেন, সরকারের কাছে প্রশ্ন বিটিএমএ সভাপতির

0
করের টাকা কী করেন, সরকারের কাছে প্রশ্ন বিটিএমএ সভাপতির

সরকারের কাছে করের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

বিটিএমএ সভাপতি সরকারের কাছে প্রশ্ন করেছেন, ‘করের টাকা কী করেন।’ করের টাকা যথাযথভাবে খরচ হচ্ছে কি না, সে জন্য একটা সেল গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিএ ভবনে দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।  

সাবেক প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান দেশের শিল্পায়নের জন্য বিভিন্নভাবে নীতিসহায়তা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা কি ওই পথে আছি এখন? আমার মনে হয়, না। এখন আমাদের ব্যবসায় ধস নামছে। শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসার জন্য যে সুযোগ বা পরিবেশ দরকার, সেটা সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না। নীতি সংস্কার হচ্ছে না।’

সরকারের উদ্দেশে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আপনি কর না পেলে তাহলে ধরপাকড় করেন, জেলে দেন। আপনি আমার ট্যাক্সের টাকাটা নিয়ে করেন কী? আপনি যেভাবে আমাকে ধরপাকড় করে কর আদায় করেন, আমার করের টাকা আপনি কীভাবে খরচ করেন, সেটার জবাবদিহি দরকার। এ জন্য একটা সেল করা উচিত। আপনি ব্রিজ বানাবেন রাস্তা ছাড়া। আর আমাকে বলবেন, টাকা নেই। সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের প্রবণতা বেশি। এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘আগামী বাজেটে দেখব, আপনারা শিল্পকারখানার জন্য কত শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেন। কত শতাংশ অর্থ স্বাস্থ্য, কত শতাংশ অর্থ শিক্ষা খাতের জন্য রাখবেন, সেটি পরিষ্কার করে বলে দেন।’

ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ শীর্ষক প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় আইসিএবির সভাপতি এন কে এ মবিন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে। আগামী বাজেটের আকার হবে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে প্রায় ছয় লাখ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা মনে করি, প্রত্যক্ষ কর থেকে রাজস্ব বাড়াতে হবে, তাহলে রাজস্ব আহরণ হবে টেকসই।

আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য সাব্বির আহমেদ মূল প্রবন্ধে বলেন, জবাবদিহিমূলক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে সরকারকে প্রচলিত কাগজভিত্তিক হিসাব ও প্রতিবেদন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তিন বিভাগ আমাদের নাজেহাল করছে। বিভাগ তিনটি ঢেলে সাজানো না হলে আমরা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পারব না।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আজকে কেন কর ফাঁকি চলছে। কেন করের জাল বাড়ছে না। কারণ, নাগরিকের সঙ্গে করের সংযোগ নেই। সেবা না পেলে কেন নাগরিক কর দেবে। আগামী অর্থবছর থেকে আয়কর রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ কোন খাতে কত অর্থ খরচ হচ্ছে, তার বিবরণ থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ, এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here