সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ রাজপুত্র ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল জানিয়েছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রিয়াদ সুকৌশলে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে। তার মতে, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবকে ইরানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা। গত সপ্তাহের শেষের দিকে, সৌদির মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
প্রিন্স তুর্কি লিখেছেন, ইসরায়েল চেয়েছিল এই যুদ্ধের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের একাধিপত্য বজায় রাখতে এবং সৌদি আরবকে একটি অপ্রাসঙ্গিক যুদ্ধে টেনে আনতে। যদি রিয়াদ সেই ফাঁদে পা দিত, তবে হাজার হাজার সৌদি নাগরিক প্রাণ হারাতেন এবং দেশের তেল ও পানি শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যখন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে যুদ্ধের ‘আগুনের চুল্লিতে’ নিক্ষেপ করতে চেয়েছিল, তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। প্রতিবেশীর দেওয়া আঘাত সহ্য করেও রিয়াদ কূটনৈতিক পন্থায় সংকট সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করা যায়।
সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধানের মতে, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা বা স্বার্থে আঘাত করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা পাল্টা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ তারা জানত, যুদ্ধের বিস্তার ঘটলে তার চড়া মূল্য দিতে হতো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকে। বর্তমানে রিয়াদ এই উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। যুদ্ধকামীরা এখনো বাগাড়ম্বর চালিয়ে গেলেও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এখন আর তাদের হাতে নেই বলে প্রিন্স তুর্কি মন্তব্য করেন।

