ইরানের হুঁশিয়ারির পরও নতুন করে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলার তাইর দেব্বা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সিভিল ডিফেন্স সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগের নির্দেশনা বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা জানান, চলমান হামলার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার ফলে লেবাননে ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে দেশটিতে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আরও কঠোর ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানাবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, লেবানের জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি ‘বেদনাদায়ক জবাব’ দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িত লেবাননের জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়ে এই দখলদার শাসনের (ইসরায়েল) বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিয়েছে।”
তবে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান পর্যায়ে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হলে তারা আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যদি আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে- বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে-তাহলে আগের যেকোন সময়ের তুলনায় আরও কঠোর, বিধ্বংসী এবং চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সূত্র: সিএনএন, আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা

