রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ফোনে আলোচনায় লাভরভ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রাশিয়ার জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে তেহরান প্রস্তুত। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে রুশ জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়।
এদিকে, চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আরব পার্সপেকটিভস ইনস্টিটিউট–এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদোন আলকিনানি আল জাজিরাকে বলেন, ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতি মানেই যে কোনো চুক্তি সই হবে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আলকিনানি বলেন, যুদ্ধবিরতি চূড়ান্তভাবে শেষ হবে নাকি মেয়াদ বাড়ানো হবে—সে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচকরা। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সংঘাত নিরসনে নিজেদের আগ্রহ ও প্রচেষ্টার বার্তা দিতে চাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের বর্তমান অবস্থান যুদ্ধের শুরুতে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গির সঙ্গে স্পষ্টভাবে ভিন্ন। আলকিনানির মতে, ইরান ভালো করেই জানে যে, এই আলোচনা কেবল যুদ্ধ থামানোর জন্য নয়—বরং নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

