ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় উদ্ধারকাজের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়া। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বজনদের খোঁজ পাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিবিসি মুন্দোর সাংবাদিক হোর্হে পেরেজ জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হলেও এবারের জোড়া ভূমিকম্প ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। রাজধানী কারাকাসে থাকা তার পরিচিত অনেক মানুষ আতঙ্কে রাতভর ঘুমাতে পারেননি।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আগে থেকেই সংকটে ছিল। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটত। ভূমিকম্পের পর সেই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ফলে তথ্য আদান-প্রদান এবং যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখো ভেনেজুয়েলানও চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা নিজেদের পরিবার ও স্বজনদের খোঁজ পাচ্ছেন না।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ার ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সক্ষমতার মাত্র ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। পরে কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয় সময় রাত ৩টা পর্যন্ত সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার প্রায় ৭৭ শতাংশে ফিরে আসে।
নেটব্লকসের মতে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, যা উদ্ধার তৎপরতাকেও ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন ভেনেজুয়েলার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের ওপর থাকা সব ধরনের বাধা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সংকটে তথ্যপ্রাপ্তি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯৭১ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।
বিডি প্রতিদিন আশিক

