ইতালিকে প্রতিরক্ষামূলক মানসিকতায় ফেরার আহ্বান ব্রাজিল কোচের

0
ইতালিকে প্রতিরক্ষামূলক মানসিকতায় ফেরার আহ্বান ব্রাজিল কোচের

প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে চমক দেখিয়ে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নেয় বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানদের।

বিশ্বকাপ জায়গা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির ফুটবল বোর্ডের বেশ কয়েকচন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। ইতালীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

তিনি ইতালিকে সেই রক্ষণাত্মক পরিচয় পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। যার মাধ্যমে একসময় দেশটিকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দলে পরিণত করেছিল।

ব্রাজিলের এই কোচ মনে করেন, আধুনিক কৌশলগত ধারার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ আজ্জুরিদের ভঙ্গুর করে তুলেছে এবং তাদের মধ্যে সেরা মানের অভাব তৈরি করেছে। যার ফলে তারা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্রাজিলের কোচ জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটি সেই রক্ষণাত্মক নীতিগুলো থেকে সরে এসেছে যা একসময় তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্যের ভিত্তি ছিল। কারণ আধুনিক কৌশলগত ধারার প্রভাবে দেশটির ঐতিহ্যবাহী শক্তিগুলো ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আনচেলত্তি যুক্তি দিয়েছেন, ইতালী রক্ষণভাগে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। যদিও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাগুলোতে নিয়মিতভাবে বড় স্কোরের ম্যাচ হয়, তিনি মনে করেন এই দৃশ্য প্রায়শই আক্রমণভাগের নৈপুণ্যের চেয়ে রক্ষণভাগের ভুলেরই প্রতিফলন ঘটায়।

এই অভিজ্ঞ কোচের মতে, ইউরোপের অন্যত্র ব্যবহৃত আগ্রাসী প্রেসিং সিস্টেম অনুকরণ করার প্রচেষ্টা সেই কৌশলগত পরিচয়কে বিকৃত করেছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ইতালীয় ফুটবলকে এতটা অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল।

আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন, এই সমস্যাটি শুধু রক্ষণভাগের ভুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোর তুলনায় সিরি আ-র ছন্দ এবং তীব্রতার ব্যাপক পতনেরই প্রতিফলন। তিনি পরিবর্তনশীল বিশ্ববাজারের দিকেও ইঙ্গিত করে বলেন, এই লিগ আর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করে না।

তিনি বলেন, মৌলিক পার্থক্যটা হলো গতিতে। শুধু দৌড়ানোর প্রতিযোগিতামূলক গতি নয়, বরং মানসিক গতি, অবিরাম অংশগ্রহণ এবং এমন এক তীব্রতা যা কেবল কথার কথা নয় এবং ম্যাচের নির্দিষ্ট কিছু পর্যায়ে ব্যবহার করা যায় না। ইতালীয় ফুটবল ঠিক এই জিনিসটাই হারিয়েছে।

আনচেলত্তি বলেন, সেরা বিদেশি খেলোয়াড়রা আর ইতালিতে আসেন না। বিদেশে, বিশাল টেলিভিশন স্বত্ব এবং শক্তিশালী বিনিয়োগকারীদের কারণে আরও আকর্ষণীয় একটি বাজার তৈরি হয়েছে। তাই ইতালির পেশাদার ফুটবল লীগ সেরি আ-তে এখন আর ফালকাও, ম্যারাডোনা, প্লাতিনি, ক্রোল, রুমেনিগে, রোনাল্ডো, রোনালদিনহো এবং বিগত যুগের অন্য সকলের মতো আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিভাদের দেখা যায় না। তাহলে তরুণ ইতালীয়রা কোথা থেকে শিখবে?

ব্রাজিলের কোচ সতর্ক করে বলেছেন, ইতালীয় ফুটবল তার ঐতিহ্যবাহী শক্তিগুলো পরিত্যাগ করার মূল্য দিচ্ছে। তিনি ইল জিয়োর্নালেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সেরি আ তার রক্ষণভাগের দৃঢ়তা হারিয়েছে। মাঠের অন্যান্য অংশে আমাদের প্রতিভার অভাব রয়েছে, কিন্তু কৌশলগত দিকের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলোকে বিকৃত করেছে, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমরা সবসময় আমাদের ইতিহাস গড়ে তুলেছি।

বায়ার্ন মিউনিখ, রিয়াল মাদ্রিদ এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলোর সাম্প্রতিক উচ্চ-স্কোরিং ইউরোপীয় ম্যাচগুলোর প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, বিনোদন প্রায়শই রক্ষণভাগের শৃঙ্খলার বিনিময়ে আসে। তিনি বলেন, আমি অনেক গোলের ম্যাচ দেখেছি। আতলেতিকো মাদ্রিদ-বার্সেলোনা এবং বায়ার্ন-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচগুলো ভক্তদের জন্য রোমাঞ্চকর মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত গোলের অর্থ হলো গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভুলও। তথাকথিত হাই প্রেসার ও ম্যান-টু-ম্যান খেলায় ক্রমাগত ঝুঁকি থাকে, আর তাই খেলার ফলাফল মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। এমনকি পেছন থেকে আক্রমণ তৈরি করাটাও নিখুঁত হতে হবে, নইলে সামান্যতম অমনোযোগের জন্যও সঙ্গে সঙ্গে তার মূল্য দিতে হয়।

২০২৬ বিশ্বকাপের মূল আসরে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালিকে এখন এক কঠিন নেশন্স লীগ অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সেপ্টেম্বরে নেশন্স লীগের গ্রুপ পর্বে তাদের বেলজিয়াম এবং তুরস্কের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here