শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে হেরে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন ইউলিয়ান নাগেলসমান। তার সব মনোযোগ এখন নকআউট পর্বের লড়াইয়ের দিকে। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের পথ পাড়ি দিতে চান জার্মানির কোচ।
নিউ জার্সিতে বৃহস্পতিবার একুয়েডরের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ২-১ গোলে হারে জার্মানি।
ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয় মিনিটেই তাদেরকে এগিয়ে নেন লিহয় জানে। কিন্তু বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। নবম মিনিটে সমতা ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি করেন প্লাটা।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ বত্রিশে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছিল জার্মানি। ম্যাচটি তাদের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, ইকুয়েডরের জন্য ছিল বাঁচা-মারার। সেই লড়াইয়ে জিতে তৃতীয় সেরা দলের একটি হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নেয় তারা।
আগামী সোমবার বস্টনে শেষ বত্রিশের ম্যাচ খেলবে জার্মানি। সেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেতে পারে কোনো একটি তৃতীয় সেরা দলকে।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথমবার হেরে নাগেলসমান শান্ত ও অবিচল ছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি বললেন, এই হার ভুলে তাদের সামনের দিকে তাকাতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই হার থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং উন্নতি করতে হবে। তবে একই সঙ্গে আমাদের সামনের দিকেও তাকাতে হবে। সোমবারের ম্যাচে আমাদের শুরুটা ভালো করা অত্যন্ত জরুরি।’
ম্যাচের লিড ধরে রাখতে হলে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দলকে ‘আরও শান্ত এবং আরও সক্রিয়’ হতে হবে বলে মনে করছেন নাগেলসমান। তিনি আরও বলেন,‘যখন এত চমৎকার শুরু পাবেন এবং এগিয়ে যাবেন, তখন খালি জায়গা খুঁজে আক্রমণ করার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। আজ এগিয়ে যাওয়ার পর আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলাম।’
বিশ্বকাপে পঞ্চম ম্যাচে এসে গোলের দেখা পেয়েছেন জানে। সাম্প্রতিক সময়ে অধারাবাহিক ফর্মের কারণে সমালোচনার মুখে পড়া এই রাইট-উইঙ্গারের পারফরম্যান্সে ভীষণ খুশি নাগেলসমান। তিনি বলেন,‘আমি খুবই খুশি ছিলাম। গোলটা করার সময় সে খুব ভালো পজিশনে ছিল। গোলের সুযোগ তৈরিতেও সে সত্যিই দারুণ কাজ করেছে।’
ইকুয়েডরের বিপক্ষে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন নাগেলসমান। মিডফিল্ডার আলেকসান্দার পাভলোভিচকে দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামাননি তিনি। আর ৬৪তম মিনিটে আরেক মিডফিল্ডার ফিলিক্স এনমেচাকে তুলে নেন জার্মান কোচ। এই দুইজনকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করতে নারাজ নাগেলসমান।
কোচ বলেন, ‘কোচ হিসেবে এটাই সমস্যা- কাউকে মাঠে নামাতে হলে কাউকে তুলে নিতেই হয়। ফিলিক্স ও পাভলো দুজনেই খুব ভালো খেলেছে, ম্যাচের শুরুটা ভালো করতে তারা সাহায্য করেছিল। তাদের কাউকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার কোনো পূর্বপরিকল্পনা আমার ছিল না।’
পরের ম্যাচের একাদশ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি জার্মানদের কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা রবিবার অনুশীলন সেশনটি দেখব এবং নতুন সিদ্ধান্ত নেব। তখনই দেখা যাবে কারা শুরুর একাদশে থাকছেন।’

