আকাশছোঁয়া দামের পরও টিকিট বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা

0
আকাশছোঁয়া দামের পরও টিকিট বিক্রিতে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও দেড় মাসের কম সময় বাকি রয়েছে। টুর্নামেন্টে সামনে রেখে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে।

৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাড এবং মেক্সিকোতে বসছে এবারের আসর। এদিকে আকাশছোঁয়া দামের পরও টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আয়োজকরা। কারণ এখনই গ্রুপ পর্বের বেশিরভাগ ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।

স্বাগতিক সমর্থকরা টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএসএ) প্যারাগুয়ের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট খুঁজে নিতে পারেন, যার দাম শুরু হচ্ছে ১,১২০ ডলার থেকে এবং সর্বোচ্চ ৪,১০৫ ডলার পর্যন্ত দামে। লস অ্যাঞ্জেলেসে ১২ জুনের এই ম্যাচের অনেক টিকিটের দাম প্রায় ২,০০০ ডলার। হসপিটালিটি প্যাকেজ গ্রুপের আসনগুলোর দাম প্রতি সিট ৬,০৫০ ডলার পর্যন্ত উঠছে।ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তাদের ‘শেষ মুহূর্তের বিক্রি’ বিভাগের মাধ্যমে এখনও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে টিকিট বিক্রির প্রথম পর্ব থেকেই দর্শকরা ম্যাচের আকাশছোঁয়া টিকিটের দামে ক্ষুব্ধ। ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য প্রায় ১১,০০০ ডলার। গত মাসের শেষের দিকে, ফিফা আরও একটি ‘শেষ মুহূর্তের টিকিট পর্ব’-এর ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিট আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে পাওয়া যাবে।

বিক্রির এই স্থবিরতা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জানুয়ারির সেই দাবির বিপরীত, যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে এ বছরের টুর্নামেন্টের টিকিটের চাহিদা হবে ‘একসঙ্গে ১,০০০ বছরের বিশ্বকাপের’ সমান।

বিশেষজ্ঞরা এর মূল কারণ হিসেবে ডাইনামিক প্রাইসিং এবং লোভকে দোষারোপ করেছেন। অন্যদিকে দর্শকদের অভিযোগ, ফিফা তাদের ‘মূল্যের চাপে’ টিকিট কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে।

ক্রীড়া নির্বাহী পিটার মুর সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই সুপার বোলে প্রচলিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। কিন্তু সারা বিশ্বের দর্শকরা ডাইনামিক প্রাইসিং এবং টিকিট পুনঃবিক্রয় থেকে আইনসম্মত মুনাফায় অভ্যস্ত নন। লিভারপুলের সাবেক এই প্রধান নির্বাহী বলেন, ডাইনামিক প্রাইসিং থেকে ফিফার ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়াটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ফিফা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনন্য বাণিজ্যিক সুযোগ, যেমন ডাইনামিক প্রাইসিং এবং সেকেন্ডারি মার্কেট বৈধ হওয়ার সুবিধা নিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেছেন,  বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। এটিকে আরও যুক্তিসঙ্গত ও সহজলভ্য করে হয়তো ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করা হচ্ছে না কেন?

গত মাসে ফিফার অফিসিয়াল রিসেল সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের চারটি আসনের প্রতিটির দাম প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। গ্রুপ পর্বের মোট সাতটি ম্যাচের সাধারণ বিক্রির টিকিট এখনও ৩৮০ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডান, নিউজিল্যান্ড বনাম মিশর, জর্ডান বনাম আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে বনাম সৌদি আরব, আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া, কঙ্গো ডিআর বনাম উজবেকিস্তান এবং কুরাকাও বনাম আইভরি কোস্ট।

গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের, যা সবচেয়ে ব্যয়বহুল খেলা। এরপরেই রয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া (২,৯২৫ ডলার), ইকুয়েডর বনাম জার্মানি (২,৫৫০ ডলার), উরুগুয়ে বনাম স্পেন (২,৫২০ ডলার) এবং ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া (২,৫০৫ ডলার)।

ফিফার ওয়েবসাইট অনুসারে, গ্রুপ পর্বের মোট ১৭টি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, যার মধ্যে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচটিও রয়েছে। মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সাতটি ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, যার মধ্যে সহ-আয়োজকদের গুয়াদালাহারায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবং মেক্সিকো সিটিতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে অন্য দুটি ম্যাচও রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে তুরস্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র, নিউ জার্সিতে ব্রাজিল বনাম মরক্কো এবং মায়ামিতে স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিলের মতো অন্যান্য ম্যাচগুলোর সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here