অনন্য উচ্চতায় লুইস এনরিকে

0
অনন্য উচ্চতায় লুইস এনরিকে

ফুটবল শুধু গোল, ট্রফি কিংবা জয়ের গল্প নয়। কখনও কখনও এটি মানুষকে হার না মানার শক্তি দেয়, ভেঙে পড়া জীবনকে আবার দাঁড় করিয়ে দেয় নতুন উচ্চতায়। পিএসজির প্রধান কোচ লুইস এনরিকের সাম্প্রতিক সাফল্য যেন সেই অনুপ্রেরণারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচটি অন্যরকমও হতে পারত। কয়েকটি মুহূর্তে ভাগ্য পিএসজির বিপক্ষে গেলেই হয়তো গল্পের পরিণতি বদলে যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে জয়ের হাসি ছিল প্যারিসের ক্লাবটির মুখে, আর সেই হাসির কেন্দ্রে ছিলেন লুইস এনরিকে।

এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন স্প্যানিশ এই কোচ। বার্সেলোনাকে ২০১৫ সালে ইউরোপসেরা করার পর গত মৌসুমে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি। এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্লাবটিকে মহাদেশ সেরা করে নিজেকে নিয়ে গেলেন কিংবদন্তিদের কাতারে।

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় তিন বা তার বেশি শিরোপা জেতা কোচের সংখ্যা হাতে গোনা। সেই বিশেষ তালিকায় এখন জায়গা করে নিয়েছেন এনরিকে। পাশাপাশি টানা দুটি শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তিতেও নাম লিখিয়েছেন তিনি।

তবে এনরিকের সাফল্যের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে মাঠের বাইরের সংগ্রামে। কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় তার নয় বছর বয়সী কন্যা জানা। সেই শোক একজন বাবার জীবনকে যেভাবে নাড়িয়ে দিতে পারে, এনরিকেও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না। অথচ ব্যক্তিগত জীবনের সেই গভীর বেদনা তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

২০১৫ সালে বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জয়ের পর মেয়েকে নিয়ে মাঠে উদযাপনের যে স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে আছে, সেটিই আজ নতুন অর্থে ফিরে এসেছে। কারণ, সেই স্মৃতির ভার বুকে নিয়েই এনরিকে আবারও পৌঁছেছেন সাফল্যের চূড়ায়।

অনেকের ধারণা ছিল, মহাতারকাবিহীন পিএসজি ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না। একসময় লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের নিয়েও যে ক্লাব কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, সেই দলকেই নতুন পরিচয় দিয়েছেন এনরিকে।

তিনি দেখিয়েছেন, শুধু তারকার সমাহার নয়; সুসংগঠিত দল, স্পষ্ট পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী দর্শনই বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।

ফাইনাল শেষে এনরিকে বলেন, আর্সেনালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এই শিরোপা জয়ের অনুভূতি আরও বিশেষ। তাঁর মতে, এটি শুধু দলের নয়, পুরো শহরের জন্যই অসাধারণ এক অর্জন।

আসলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের গল্প নয়। এটি একজন বাবার, একজন লড়াকু মানুষের এবং একজন দূরদর্শী কোচের গল্প। যে মানুষটি শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে প্রমাণ করেছেন- জীবন যত কঠিনই হোক, স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া কখনও থেমে থাকে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here