ব্রিটিশ জমিদার আমল থেকেই পুকুরের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল শেরপুর। তবে সময়ের ব্যবধানে শহরের অধিকাংশ পুকুর ভরাট বা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ৮ থেকে ১০টি পুকুর ছাড়া প্রায় সবই বিলুপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে শহরের ঐতিহ্যবাহী জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-এর পুকুরটি শিশুদের সাঁতার শেখার অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি স্কুল প্রশাসন পুকুরটি লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় তা সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য অবমুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিশুরা।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সচেতন শেরপুরবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন স্তরের সাঁতারু, প্রশিক্ষণার্থী শিশু ও অভিভাবকেরা অংশ নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছেও আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শেরপুর সুইমিং একাডেমী ২০২২ সাল থেকে এ পুকুরে সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ পর্যন্ত চার শতাধিক প্রি-প্রাইমারি শিক্ষার্থীকে সাঁতার শেখানো হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিং ফেডারেশনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় একাডেমিটি ভূমিকা রাখছে। জেলা ক্রীড়া অফিস আয়োজিত মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণেও তারা সহযোগিতা করে আসছে।
এছাড়া একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএমএ কোর্সে পাঁচজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ও ১৭ জন সৈনিক উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। বিকেএসপিতে দুইজন এবং ‘তোমাকে খুঁজছে বাংলাদেশ’ ট্যালেন্ট হান্টে একজন সুযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুকুরটি ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। আয়োজকদের দাবি, মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়া হলে পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হবে এবং শিশুদের সাঁতার শেখা ব্যাহত হবে। তাই পুকুরটি সাঁতার প্রশিক্ষণের স্বার্থে লিজমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাঁতার প্রশিক্ষক সারোয়ার জাহান পপলিন, হিমন, রাজন, অ্যাথলেটিক্স কোচ আলমগীর হোসেন, ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন বাচ্চু, মো. শওকত হোসেন, সুমাইতাত জাহান স্মিতা ও মহিলা ফুটবল রেফারি ভাবনা প্রমুখ। শেরপুর প্রেসক্লাব ও সাবেক খেলোয়াড় পরিষদ এ দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

