টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে জরিমানা বিতর্ক তুঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠতে না পারা পাকিস্তান দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
এই প্রেক্ষাপটে সরব হয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মাদ আমির। তাঁর প্রশ্ন ব্যর্থতার দায় কি শুধু ক্রিকেটারদের? দল নির্বাচন করেন নির্বাচকরা, একাদশ ও পরিকল্পনা ঠিক করে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাহলে শাস্তি কেন একতরফাভাবে খেলোয়াড়দের ওপর?
পাকিস্তানের টিভি শো ‘হারনা মানা হ্যায়’তে আমির বলেন, ‘জরিমানাই যদি সমাধান হয়, তাহলে নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসন, সবার ওপরই তা প্রয়োগ করুন। ক্রিকেটাররা তো বন্দুক ধরে বলেনি যে, আমাদের দলে নিন। ভুল কম্বিনেশনের দায় নির্বাচকদেরও নিতে হবে। তাদের জরিমানা দ্বিগুণ করুন। শুধু ক্রিকেটারদের বলির পাঁঠা বানানো বন্ধ করুন।’
আমিরের বক্তব্য, অর্থদণ্ড কখনোই প্রকৃত সমাধান হতে পারে না। বরং এতে সমস্যার মূল কারণ আড়াল হয়ে যায়। তাঁর মতে, দল গঠনে ভুল সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনার দায়ও সমানভাবে নির্ধারণ করা উচিত।
বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার মাঝেও কিছু ক্রিকেটার ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন। সাহিবজাদা ফারহান রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন, ফাখার জামান খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তাঁদেরও কি একইভাবে জরিমানা করা হবে, এ প্রশ্ন তুলেছেন আমির।
‘আপনি ফখার জামানকে জরিমানা করবেন, যে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছে? সাহিবজাদা ফারহানের ক্ষেত্রেও কি একই সিদ্ধান্ত?’ প্রশ্ন তাঁর।
সাবেক এই পেসারের মতে, ‘শাস্তি হিসেবে জরিমানার বদলে আরও কার্যকর পথ হতে পারে দল থেকে বাদ দেওয়া। যদি কারও ওপর অসন্তুষ্ট হন, তাকে জরিমানা না করে দল থেকে বাদ দিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুই বছর পারফর্ম করতে বলুন। খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া।’

