বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

0
বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

ডিজিটাল যুগের শিশুরা শুধু বইয়ের পাতায় নয়, প্রকৃতির কাছ থেকেও শেখে এমন লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সবুজায়নের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে রাজধানীর বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

সোমবার সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে  ফলদ, বনজ, ঔষধি ও ছায়াবৃক্ষ রোপণ করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

র‌্যালিতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘শিক্ষাঙ্গনে সবুজের বার্তা, সবুজ বাংলাদেশের নবযাত্রা’, ‘আজকের বৃক্ষরোপণ, আগামীর জলবায়ুর সুরক্ষা’,- এসব সচেতনতামূলক স্লোগান।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর মোহসিন করিম (অব.) বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও তার উদ্যোগের উদাহরণ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিশেষ নির্দেশনায় পরিচালিত এ কর্মসূচি দেশ বিদেশে সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

1

প্রতিষ্ঠাটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আনিছুর রহমান বলেন, সরকারের জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ করা হলেও বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়েছে আরো দুই বছর আগে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশে প্রায় এক হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে সবুজায়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর উদ্দেশ্য শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তাদের ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসও অনেক সময় গাছের নিচেই নেওয়া হয়, যেন শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
 
অধ্যক্ষ বলেন, প্রকৃতির কাছ থেকেই মানুষ সবচেয়ে বড় শিক্ষা পায়। সবুজ পরিবেশ মানুষের মন ও শরীরকে সতেজ রাখে। তাই শিক্ষার্থীদের এমন একটি পরিবেশে বেড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেখানে তারা প্রযুক্তিতে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতিও সমান ভালোবাসা গড়ে তুলবে। এতে তাদের সৃজনশীলতা, মননশীলতা ও মানবিক গুণাবলিও বিকশিত হবে।

তিনি আরো জানান, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি এরই মধ্যে রোপণ করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে একটি স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের ছাদে একটি শিক্ষামূলক বাগানও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে বীজ বপন থেকে শুরু করে চারা গাছের বৃদ্ধি, ফুল ফল ধারণ সবকিছুই তারা হাতে কলমে শিখতে পারছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ফলদ গাছকে ব্যবহার করে বিজ্ঞান বিষয়ের বাস্তব পাঠও পরিচালনা করা হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ বিন আলম বলে, প্রথমবারের মতো এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। একটি গাছ শুধু ছায়া দেয় না, মানুষের জীবনও রক্ষা করে। তাই সে নিজের হাতে একটি গাছ লাগিয়ে নিয়মিত পরিচর্যার অঙ্গীকার করেছে।
 
ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মারিয়া জানায়, গাছ লাগানোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে আরো কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থী যদি অন্তত একটি করে গাছের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরো সবুজ হয়ে উঠবে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি আন্দোলন। আজকের একটি গাছই আগামী দিনের সবুজ, নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশের ভিত্তি হয়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here