অস্ত্রের মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

0
অস্ত্রের মজুত কমছে, উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ বাড়ায় এবং বিভিন্ন সংঘাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে বড় কয়েকটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মিত্র দেশগুলোকে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যাপকভাবে গোলাবারুদ ও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদী (প্রিসিশন-গাইডেড) অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক হবে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে প্রতিরক্ষা খাতের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় ধরনের আলোচনা। 

এর আগে চলতি বছরের মার্চে একই ধরনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে ছিল- বিএই সিস্টেমস, লকহিড মারটিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, আরটিএক্স করপোরেশন, বোয়িং, হানিওয়েল অ্যারোস্পেস এবং এল৩হ্যারিস টেকনোলজিস। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কিছু প্রাথমিক চুক্তি করা হয়েছিল। তবে পেন্টাগনের আলোচনাকারীরা এখন এসব চুক্তির বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা চাহিদার কারণে এসব অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় শুধু বর্তমান অস্ত্র মজুতের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তাই প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নতুন করে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here