তেল থেকে ইরানের ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের হাতছানি

0
তেল থেকে ইরানের ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের হাতছানি

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের সমীকরণে এক নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বৃত্ত ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের খবর বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর থেকে জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা তেহরানের অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা কার্যকর হলে ইরান আবারও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। গাণিতিক হিসাব এবং বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারদর বিবেচনায় নিলে, ইরান বছরে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতির জন্য এটি হবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক অক্সিজেন।

ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলা বছরের পর বছর কূটনৈতিক টানাপোড়েন, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা স্মারকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবুও এর সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই আন্তর্জাতিক বাজারে তার কিছুটা প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে তেলবাহী বেশ কয়েকটি ইরানি ট্যাংকার বন্দর ছেড়েছে এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ রেখা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এটি মূলত প্রত্যাশিত রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর একটি প্রাথমিক সংকেত।

জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ী এবং শিপিং অপারেটররা ইতিমধ্যেই নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। তারা ধারণা করছেন, যদি এই সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পায়, তবে ইরানের তেল পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে অবাধে প্রবেশাধিকার পাবে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের চেইনে ইরানের মতো একটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশের পুনরায় যুক্ত হওয়া বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে এই সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানামুখী প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই চুক্তির সফলতার বিষয়ে কড়া সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। এই ধরনের সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে এবং তা ইরানের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

বিশ্লেষকদের দীর্ঘদিনের মত ছিল যে, ইরান যদি বিশ্ববাজারে পুনরায় প্রবেশাধিকার পায়, তবে তাদের বার্ষিক রাজস্ব আয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বর্তমান প্রতিবেদনটির ভিত্তি হলো ইরানের পূর্বের উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমানের বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দাম। স্বাভাবিক উৎপাদন পর্যায়ে ফিরতে পারলে তেহরান যে বিশাল অংকের এই অর্থ অর্জন করতে পারবে, তা তাদের আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সম্ভাব্য সমঝোতা এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ইরানের অর্থনীতির জন্য বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপরও এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান কত দ্রুত এই প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here