তাইওয়ান প্রণালিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে মার্কিন বিমান বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে গভীর সংকটের বার্তা সামনে এসেছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার বিমানকে অপরিহার্য মনে করা হলেও, বর্তমানে এই বিমানগুলোর চরম রক্ষণাবেক্ষণ সংকট এবং প্রস্তুতির অভাব মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য এক বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সরকারের জেনারেট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস বা জিএও-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং ঠিকাদারদের নজরদারিতে গাফিলতির কারণে এফ-৩৫ কর্মসূচির সক্ষমতার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এক সময় যা ৩৮ শতাংশ ছিল, তা বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পুরো বহরের সামগ্রিক মিশন সক্ষমতাও বড় ধরনের অবনতির শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করার পরিকল্পনা করলেও, বেসরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরির সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান তহবিলের ঘাটতি এই লক্ষ্য পূরণকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত শুরু হলে এফ-৩৫ এর ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী, যা অতিক্রম করতে প্রচলিত এফ-১৬ বা এফ-১৮ এর মতো নন-স্টিলথ বিমানগুলো হিমশিম খেতে পারে। একমাত্র স্টিলথ সক্ষমতা সম্পন্ন বিমানগুলোই চীনের এস-৪০০ বা এইচকিউ-৯বি এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে বিমানগুলো যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি, সেগুলোই এখন মেরামতের অভাবে মাটিতে বসে আছে।
এদিকে চীন তাদের সামরিক শিল্পকারখানার সক্ষমতা অভাবনীয় গতিতে বাড়িয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, চীন দ্রুত তাদের জে-২০ স্টিলথ ফাইটারসহ বিভিন্ন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধবিমান বহরের মালিক করে তুলবে। চীনের এই দ্রুত অগ্রগতির বিপরীতে মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্তুতির সংকট যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই এখন প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কতগুলো এফ-৩৫ আছে তার চেয়েও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে; যুদ্ধের প্রয়োজনে কতগুলো বিমান উড়তে প্রস্তুত থাকবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক এই যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল উন্নত প্রযুক্তি থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সেগুলো যুদ্ধের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে কার্যকর রাখাটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: এশিয়া টাইমস

