বৃষ্টিতে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা, তিস্তায় হলুদ সংকেত

0
বৃষ্টিতে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা, তিস্তায় হলুদ সংকেত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে কলকাতাসহ একাধিক জেলা জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও দার্জিলিংয়ে একটি অস্থায়ী সেতু ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা বেড়েছে বাংলাদেশের তিস্তা তীরবর্তী জেলাগুলোতেও।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ায় কলকাতায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তাঘাটেও যানবাহন ও পথচলতি মানুষের সংখ্যা কম। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক রাস্তা। কোথাও কোথাও বাসায় পানি ঢুকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পানি ঢুকেছে থানায়, স্কুলেও। হাওড়ায় স্কুলে পানি ঢুকে যাওয়ার কারণে স্কুল ছুটি করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোলা থানায় পানি ঢুকে যাওয়ার ইট পেতে যাতায়াত করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। কলকাতা বিমানবন্দরের সামনে ভিআইপি রোডের ওপরে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল করছে ধীর গতিতে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। 

রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নের প্রবেশের মুখেও পানিতে থই থই অবস্থা। ফলে সরকারি কর্মচারীদের অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে, না হয় পানির মধ্যে দিয়ে আসতে হচ্ছে। 

টানা বৃষ্টির কারণে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানাতেও দুটি পানির পাইপ ফেটে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

অন্যদিকে, টানা বর্ষণে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার কিছু জায়গায় ভূমিধস ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে দার্জিলিং দুধিয়ায় বালাসন নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী দুধিয়া সেতু ধসে পড়েছে। এতে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে প্রবল ভূমিধসে একই স্থানের স্থায়ী লোহার সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাজ্যের পর্যটন দপ্তর থেকে ইতোমধ্যে দার্জিলিং এবং কালিম্পং ভ্রমণ করতে যাওয়া পর্যটকদের সতর্ক করেছে। 

এদিকে, উত্তর ও দক্ষিণ সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ভারতের সেচ বিভাগ তিস্তা নদীসংলগ্ন দোহমণি এলাকা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে হলুদ সংকেত জারি করেছে। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। 

এছাড়া ভুটানে ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিমবঙ্গের জলঢাকা, তোর্সা ও মুজনাই নদীর পানিও বেড়েছে। এসব নদীর উজানের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here