ফুটবল যে শুধু খেলা নয়, তা প্রমাণ করেছিল ব্রাজিল অনেক আগেই। গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত হাইতিতে গিয়ে তারা এমন এক বার্তা দিয়েছিল, যা সাময়িক হলেও থামিয়ে দিয়েছিল সংঘর্ষের আগুন।
২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও হাইতির ম্যাচকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে ২০০৪ সালের সেই ঘটনা। ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ের দুই বছর পর, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে ব্রাজিল দল সফরে যায় হাইতিতে।
সেই সময় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে অস্থির হয়ে উঠেছিল দেশটি। চারদিকে সহিংসতা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। এমন বাস্তবতায় ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় ‘শান্তির ম্যাচ’, যা হাইতির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
ম্যাচটি শুধু ফুটবল ছিল না, ছিল এক মানবিক উদ্যোগ। কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছিল মানুষের জীবনে। বারুদের গন্ধ ছাপিয়ে সেদিন মাঠে ছিল উল্লাস, ছিল জীবনের স্পন্দন।
সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রজার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্রাজিলে যে ভালোবাসা পেয়েছিলেন, হাইতির মানুষের ভালোবাসা ছিল আরও বেশি আন্তরিক। কঠিন সময়েও তারা আনন্দ খুঁজে নিয়েছিল ব্রাজিল দলের পাশে থেকে।
আরেক মিডফিল্ডার এদু গাসপার জানান, স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক শুধু বড় তারকাদের নয়, দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের নাম জানত। সবাইকে ঘিরেই ছিল তাদের উচ্ছ্বাস।
ম্যাচের ফল ছিল ৬-০, তবে স্কোরলাইন ছিল গৌণ। রোনালদিনহো করেন হ্যাটট্রিক, রজার দুটি এবং নিলমার একটি গোল করেন। কিন্তু হাইতির মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সামনে থেকে দেখা।
এই সফরের আরেকটি স্মরণীয় দৃশ্য ছিল বিমানবন্দর থেকে পোর্ট অব প্রিন্স পর্যন্ত যাত্রা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথে সাঁজোয়া যান ওপর দাঁড়িয়ে ব্রাজিল দলকে স্বাগত জানায় লাখো মানুষ।
এই ম্যাচের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল নিরস্ত্রীকরণে উৎসাহ দেওয়া। তাই অনেক টিকিট দেওয়া হয়েছিল অস্ত্র জমা দেওয়ার বিনিময়ে। ফুটবল মাঠেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল শান্তির বার্তা।
এই মানবিক উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জেতে।

