ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নেমেছিল কানাডা। অবশ্য শেষপর্যন্ত জয় পাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। তবুও পুরো ম্যাচে আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে প্রশংসা কুড়িয়েছে কানাডা।
টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই বসনিয়ার গোলমুখে আক্রমণ শানিয়েছে কানাডা। একের পর এক আক্রমণে বসনিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা।
উল্টো ম্যাচের প্রথমার্ধে কর্নার থেকে জোবো লুকিকের গোলে এগিয়ে যায় বসনিয়া। সেই গোলে কিছুটা স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারিতে উপস্থিত কানাডিয়ান সমর্থকেরা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। গোল শোধের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কানাডা। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে বসনিয়ার রক্ষণে। এরই ফল হিসেবে আসে বহুল কাঙ্ক্ষিত সমতা ফেরানো গোল।
গোলের পর জয়ের খোঁজে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। শেষ দিকে একাধিক সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু বসনিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় আর কোনো গোল পাওয়া হয়নি।
ফলে শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। জয় না পেলেও কানাডার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বাগতিক সমর্থকদের।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনো জয় পায়নি কানাডা। তাই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। অবশ্য ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
তবে এই ম্যাচে কানাডা দেখিয়েছে তারা প্রতিপক্ষের জন্য কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ফলাফল ড্র হলেও মাঠের খেলায় অনেকের মন জয় করেছে স্বাগতিকরা।
আগামী ১৯ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামবে কানাডা। সেই ম্যাচে সুযোগ থাকছে বিশ্বকাপ ফুটবলের নিজেদের প্রথম জয়ের ইতিহাস গড়ার।

