চলতি মাসের মার্চ মাসে বাবা হারান মেক্সিকোর স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। বাবার মৃত্যুতে অনেকটা ভেঙে পড়েন এই ফুটবলার। শোক কাটিয়ে উঠে ফুলহ্যামের হয়ে নিজের প্রথম গোল করার সময় কেঁদে ফেলেন রাউল হিমেনেজ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দেশের হয়ে প্রথম একাদশে খেলতে নেমে, গোল করার পর আবারও বাবার কথা মনে পড়তেই আবেগ সংবরণ করতে পারেন নি এই ফরোয়ার্ড তারকা।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আলভারাদোর পাস থেকে হেডে গোল করেন তিনি। গোল করার পর উদযাপনের মতোই হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে উদযাপন করেন। এ সময় মেক্সিকোর ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড কেঁদে ফেলেন।
ফুলহ্যামের সাবেক এই ৯ নম্বর খেলোয়াড়, চলতি মৌসুমে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে উলভারহ্যাম্পটনে ফিরে আসেন। তবে রাউল হিমেনেজ যাত্রাটা এতটি সহজ ছিল না। ২০২০ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের হয়ে আর্সেনালের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রাউল হিমেনেজ মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আট মাস সুস্থ হওয়ার পর এই স্ট্রাইকার আবারও মাঠে ফেরেন।
সবশেষ কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর দলে জায়গা পেয়েছিলেন। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই দল বাদ পড়ার সময় জিমেনেজ ‘এল ট্রি’-র হয়ে মাঠে নামা হয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে উদ্বোধনী প্রথম একাদশ জায়গা করে নেন ৩৫ বছর বয়সী এই ফুটবলা।
জিমেনেজ এখন মেক্সিকোর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পথে। তিনি ৪৬ গোল নিয়ে জ্যারেড বোর্গেত্তির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা চিচারিতো হার্নান্দেজ ৫২ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন।
জিমেনেজ দেশের হয়ে ১২৭ বার খেলেছেন, যার মধ্যে ২০১৪ বিশ্বকাপ (মাত্র একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি), এবং ২০১৮ ও ২০২২ সালের টুর্নামেন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।আগামী ১৮ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মেক্সিকোর দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে মেক্সিকো।

