অসুস্থতার ছুটির আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান, অফিসের শৌচাগারেই তরুণীর মৃত্যু

0
অসুস্থতার ছুটির আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান, অফিসের শৌচাগারেই তরুণীর মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে অফিসের শৌচাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার নাম গসিনা ঢলাধলা। অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থতার কারণে বারবার ছুটির আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আইউইটনেস নিউজ’ এ তথ্য জানিয়েছে।

গসিনা জোহানেসবার্গের রোজব্যাঙ্ক এলাকায় অবস্থিত কারট্র্যাক প্রতিষ্ঠানে কল সেন্টার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, তিনি বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতা ও চরম ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। তবুও তার ছুটির আবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার সোয়েতান পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং তার ব্যবস্থাপক চিকিৎসার খরচ কে বহন করবে, তা নিয়েই আলোচনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকর্মীদের অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকর্মী বলেন, ‘গসিনার মৃত্যুর পেছনে প্রতিষ্ঠানটিরও দায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, শুক্রবার তাকে হাঁটু গেড়ে কাঁদতে দেখেছি। সে বলছিল, ‘আমি খুব অসুস্থ। তারপরও শনিবার আমাকে কাজে আসতে বলা হয়েছে। আমি আগেই জানিয়েছিলাম যে আমি ভালো নেই।’

সহকর্মীর দাবি, মৃত্যুর আগের দিনও গসিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিম লিডার তাকে অফিসে ডেকে নেন। তারা কী নিয়ে কথা বলছিলেন, তা আমি শুনতে পাইনি। তবে আমি দেখেছি, কথা বলার সময় গসিনা চশমা খুলে কাঁদছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যু সব সময় ঠেকানো যায় না। কিন্তু গসিনার এমনভাবে মারা যাওয়ার কথা ছিল না। হয়তো তার পরিবার সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারলে তাকে বাঁচানো যেত। অন্তত তিনি প্রিয়জনদের পাশে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারতেন। একটি টয়লেট কিউবিকলের ভেতরে একা তার মৃত্যু খুবই মর্মান্তিক।’

পরিবারের অভিযোগ

গসিনার খালা নোমুসা বলেন, মৃত্যুর আগে কয়েক দিনের মধ্যে গসিনা দুবার অসুস্থতার ছুটির আবেদন করেছিল। নোমুসা বলেন, ‘আমাকেই একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়েছিল। কারণ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তখন চিকিৎসা খরচের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। আমার ভাগ্নির জীবন বাঁচানোর বিষয়টি তখন অগ্রাধিকার পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে জানিয়েছিলেন যে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তাদের কাছে কোনো রেফারেন্স নম্বর ছিল না। তারা শুধু বলছিলেন, গসিনার নাড়ির স্পন্দন খুব দুর্বল হয়ে গেছে। তবুও তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য

তবে কারট্র্যাকের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক লরেন হিউম্যান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জরুরি সেবাদানকারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কাছে একটি অটোমেটিক এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর ছিল। জরুরি চিকিৎসা সেবাকেও সঙ্গে সঙ্গে ডাকা হয়েছিল।’

নতুন বিতর্ক

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থতার ছুটি অনুমোদনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গসিনা ঢলাধলার মৃত্যু কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here