মাদকমুক্ত সীমান্ত গড়ে তোলা এবং সীমান্ত এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জয়পুরহাটে ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ এবং উদ্বুদ্ধকরণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) জয়পুরহাটের সীমান্তবর্তী কড়িয়া বিওপিতে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)-এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘মাদকমুক্ত সীমান্ত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিজিবি’।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, আনসার ও ভিডিপি রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া এবং পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন।
অনুষ্ঠানে কড়িয়া ও ভূটিয়াপাড়া বিওপির আওতায় পরিচালিত ‘সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার’ থেকে সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করা ১০৫ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার যে উদ্যোগ বিজিবি নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সভাপতির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে চালু হওয়া দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে ১০৫ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে আরও ১৬ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিজিবি, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

