নব্বইয়ের নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে হি-ম্যানের প্রত্যাবর্তন

0
নব্বইয়ের নস্ট্যালজিয়ায় ভর করে হি-ম্যানের প্রত্যাবর্তন

‘বাই দ্য পাওয়ার অব গ্রেস্কাল!’একসময় এই সংলাপই ছিল অসংখ্য শিশুর কল্পনার জগতের প্রবেশদ্বার। স্কুল শেষে টেলিভিশনের সামনে বসে হি-ম্যানের অভিযান দেখার স্মৃতি আজও অনেকের মনে অমলিন। শক্তিশালী নায়ক, জাদুকরী তরবারি আর ভয়ংকর স্কেলেটরকে ঘিরে গড়ে ওঠা সেই জগত ছিল এক প্রজন্মের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সেই আবেগ ও স্মৃতিকেই কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘হি-ম্যান অ্যান্ড দ্য মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’। পরিচালক ট্র্যাভিস নাইট খুব ভালোভাবেই বুঝেছেন, এই ছবির সবচেয়ে বড় সম্পদ গল্পের নতুনত্ব নয়, বরং দর্শকের নস্ট্যালজিয়া। তাই শুরু থেকেই তিনি দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যান ইটারনিয়ার পরিচিত জগতে।

প্রিন্স অ্যাডাম থেকে হি-ম্যান হয়ে ওঠার যাত্রায় নিকোলাস গ্যালিটজিন যথেষ্ট সাবলীল। সাধারণ এক তরুণের অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বের রক্ষাকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দৃঢ়তা, দুই দিকই তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে স্কেলেটর চরিত্রে জ্যারেড লেটো ছবিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর অভিনয়ে ভয়, নাটকীয়তা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ চরিত্রটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চলচ্চিত্রটির ভিজ্যুয়াল নির্মাণও প্রশংসার দাবি রাখে। ইটারনিয়ার বিস্তৃত রাজ্য, যুদ্ধের দৃশ্য এবং জাদু ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি পরিবেশ দর্শককে একটি বৃহৎ ফ্যান্টাসি অভিযানের অনুভূতি দেয়। তবে চিত্রনাট্য সবসময় সেই ভিজ্যুয়াল জৌলুসের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। কিছু জায়গায় গল্প আগাম অনুমান করা যায়, আবার কয়েকটি দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ মনে হতে পারে।

তবুও ছবিটির বড় অর্জন হলো মূল চরিত্র ও তাদের উত্তরাধিকারের প্রতি সম্মান বজায় রাখা। আধুনিক দর্শকের কথা মাথায় রেখে কিছু পরিবর্তন আনা হলেও হি-ম্যানের মূল সত্তাকে অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। সাহস, বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ভালো-মন্দের চিরন্তন সংঘাত, এই পরিচিত উপাদানগুলো এখনও গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে।

যারা প্রথমবার হি-ম্যানের জগতে প্রবেশ করবেন, তাদের কাছে এটি হয়তো আরেকটি ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবেই ধরা দেবে। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের জন্য অভিজ্ঞতাটি অনেক বেশি ব্যক্তিগত। ছবিটি যেন পুরোনো খেলনা, টিভির সামনে কাটানো বিকেল আর শৈশবের প্রিয় সুপারহিরোর স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তোলে।

সূত্র: এই সময়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here