ঝরা লিচুর পসরায় জমজমাট বেচাকেনা, হাসছে শিশুদের মুখ

0
ঝরা লিচুর পসরায় জমজমাট বেচাকেনা, হাসছে শিশুদের মুখ

দিনাজপুরে এখন টসটসে, রসালো ও সুস্বাদু লিচুর ভরা মৌসুম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে লিচুর কেনাবেচা। তবে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি দেখা মিলছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের—ঝরে পড়া লিচু কুড়িয়ে রাস্তার পাশে ছোট ছোট পসরা সাজিয়ে বসেছে বিভিন্ন স্কুলপড়ুয়া শিশু।

ঈদুল আজহার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অবসর সময়টাকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। প্রতিদিন ভোরে আশপাশের লিচু বাগানে গিয়ে ঝরে পড়া লিচু সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো নিয়ে রাস্তার পাশে বসে বিক্রি করে। এ আয় থেকেই কেউ টিফিনের টাকা জমাচ্ছে, কেউ আবার খাতা-কলম কেনার পরিকল্পনা করছে।

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে এমন দৃশ্য দেখা গেলেও দিনাজপুর-রামসাগর সড়কের মাসিমপুর এবং দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের পাঁচবাড়ী এলাকায় শিশুদের লিচুর পসরা বেশি চোখে পড়ে। বিকেলের দিকে সেখানে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জমজমাট লিচুর বাজার বসে।

পাঁচবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশের ফুটপাতে একদল শিশু ঝরা লিচু নিয়ে বসেছে। ক্রেতা এলেই তারা দরদাম করে লিচু বিক্রি করছে। স্বল্প আয়ের মানুষও কম দামে লিচু কিনতে ভিড় করছেন সেখানে। প্রতি ১০০টি ঝরা লিচু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১০০ টাকায়।

ভ্যানচালক মোন্নাফ আলী সন্তানদের আবদার মেটাতে লিচু কিনতে এসেছেন শিশুদের কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘বাজারে লিচুর দাম অনেক বেশি। সে দামে কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এখানে কম দামে ঝরা লিচু পাওয়া যায় শুনে কিনতে এসেছি।’

আরেক ক্রেতা আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, যাতায়াতের পথে শিশুদের এই লিচুর বাজারটি চোখে পড়ে। থেমে দেখি দাম অনেক কম। তাই সন্তানদের জন্য কিছু লিচু কিনে নিলাম।

পাশেই তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফা লিচুর পসরা নিয়ে বসেছিল। সে জানায়, প্রতিদিন লিচু কুড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকার মতো বিক্রি করি। এই টাকা জমিয়ে রাখছি। স্কুল খুললে টিফিনের খরচ চালাবো, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে খাবো।

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ ও জুয়েল জানায়, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে বাগানে পড়ে থাকা লিচু কুড়িয়ে এনে বিক্রি করে। ‘এই ব্যবসা ১০-১৫ দিনের বেশি চলে না। বাগানে লিচু শেষ হলেই আমাদের আয়ও শেষ হয়ে যায়। তবে এই টাকা জমিয়ে টিফিন খাই, আবার কখনো খাতা-কলমসহ ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনে নিই,’ বলে তারা।

লিচুর মৌসুমকে ঘিরে শিশুদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ যেমন তাদের আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি নিজেদের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর সুযোগও তৈরি করছে। ঝরে পড়া লিচু কুড়িয়ে বিক্রি করে তারা শিখছে পরিশ্রম, সঞ্চয় ও আত্মনির্ভরতার প্রথম পাঠ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here