সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের এক মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একের পর এক কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও পঞ্চায়েত সদস্য পদত্যাগ করেছেন। দল ভেঙে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চও গড়ে উঠেছে। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?
বিদ্রোহী নেতাদের অনেকেই বলছেন, মমতার হাতে গড়া দল এখন আর তার হাতে নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মমতার হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে অভিষেকের হাতে। এরপর তা করপোরেট দলে পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’কে নিয়ে এসে দলের ক্ষতি করে ফেলেছেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মানলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে তারা নেতা হিসেবে মানছেন না।
মালদার তৃণমূল নেতা ও সাবেক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেছেন, ‘তিল তিল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়ে তোলা দলটাকে শেষ করে দিল অভিষেক।’ তার অভিযোগ, অভিষেক ব্যানার্জি দলে আসার পর থেকেই তৃণমূলের জনমুখী চরিত্র বদলে গেছে। পুরোনো কর্মীদের কোণঠাসা করে দলে এক নতুন সংস্কৃতির আমদানি করা হয়েছে। তার কথায়, ‘এই দলে ও করপোরেট কালচার এবং মাফিয়া কালচার নিয়ে এসেছে। যার ফলে দলের আদর্শ বলে কিছু নেই।’
১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূলের সঙ্গে আছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বর্তমানে দলের বারাসাত আসনের সংসদ সদস্য কাকলির মত, ‘মমতা ব্যানার্জি যদি আবার দলের রাস টেনে ধরেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে উনি যেই ফল চাইছেন সেটা পাবেন।’ তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক নামক সংস্থার কারণে দলের এই বিপর্যয় বলেও অভিমত তার। একই সঙ্গে দলে দুর্বিত্তায়ন ঘটেছে, অসদাচরণ ঘটেছে, নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা অহংকার জন্মানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ইতোমধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে আপাতত ৬০ জন বিধায়ক মনে করেছেন তারাই প্রধান বিরোধীদল। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঋতব্রতর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ধীরে ধীরে তৃণমূল থেকে অভিষেককে ছেঁটে ফেলাই তাদের উদ্দেশ্য।
তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক তৃণমূল বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক ও চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘একটা দলের সর্বোচ্চ নেত্রী হয়েও যদি অন্যদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়, তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে।’
তবে এমন টালমাটাল অবস্থাতেও অভিষেকের পাশেই আছেন পিসি মমতা।

