ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনেতে সন্দেহভাজন বিষাক্ত মদপানে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। পুলিশ ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পুনে শহর ও পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় বিষাক্ত মদপানে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চোরাই মদের এক শীর্ষ কারবারিও রয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভেজাল মদ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের ফুগেওয়াড়ি এলাকায় ১০ জন এবং পুনের হাডাপসারের পান্ধারে মালা এলাকায় আরও চারজন মারা গেছেন। এ ছাড়া বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ আরও পাঁচজন পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মৃত্যুর ঘটনায় ফুগেওয়াড়ি ও হাডাপসার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা মিথানল মিশ্রিত মদ ফুগেওয়াড়ি এলাকা এবং পুনের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পুনে পুলিশের কমিশনার অমিতেশ কুমার বলেন, হাডাপসারে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত মদপানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ভিসেরা নমুনা সংরক্ষণ করে ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস জানান, এ ঘটনায় আটজনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে আটক করা হতে পারে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। এর পেছনের পুরো নেটওয়ার্ক আমরা শনাক্ত করেছি।
পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের যশবন্তরাও চাভান মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডিন রাজেন্দ্র ওয়াবলে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশই নিয়মিত অতিরিক্ত মদপানে অভ্যস্ত ছিলেন। হাসপাতালে আনার সময় তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যাসিডোসিস, মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, মাথা ঘোরা ও অচেতন হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা গেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত প্রথমে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা দেখা দেয়। পরে মাথা ভারী লাগা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। একপর্যায়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

