মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ লেবাননকে আবারও ‘বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসের দিকে’ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন তিনি।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, রবিবারের ওই বিবৃতিতে রুবিও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবাননের ‘গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের বেপরোয়া আহ্বান’ জানানোরও অভিযোগ তোলেন।
এর আগে হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম বলেন,ইসরায়েলি হামলা ও আল-কর্দ আল-হাসান আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে জনগণের রাস্তায় নেমে সরকার পতনের অধিকার রয়েছে।
হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট আল-কর্দ আল-হাসান মূলত শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীকে সুদবিহীন ঋণ দিয়ে থাকে। লেবাননের অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়।
কাসেম বলেন, ‘আল-কর্দ আল-হাসানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মানে লাখো দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের বিরুদ্ধে আগ্রাসন।’
ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে লেবানন সরকারকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দিয়ে আসছে।
রুবিও বলেন, ‘হিজবুল্লাহর সহিংসতা ও সরকার উৎখাতের হুমকি সফল হতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পুরো একটি দেশকে জিম্মি করে রাখার যুগ শেষ হতে চলেছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের খসড়া সমঝোতা স্মারকে এমন ভাষা রয়েছে, যাতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে লেবাননে
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধেরও অবসান হবে।
গত ১৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ও সম্প্রতি তা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়ানো হলেও, ইসরায়েল এখনো লেবাননে নিজেদের ভাষায় ‘ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহও লেবাননের দক্ষিণে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

