রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ, শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় নিজের জীবনের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন ঢাকাই অভিনেত্রী ফারিন খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
গত ১৩ মে গভীর রাতে জামালপুর যাওয়ার পথে একটি পেট্রলপাম্পের ওয়াশরুমে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী। ফারিন খান বলেন, গত ১৩ তারিখ, জামালপুর যাচ্ছিলাম। আনুমানিক রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বাধ্য হয়েই একটা পেট্রলপাম্পের ওয়াশরুমে যাই, যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমার কেন যেন মনে হলো—পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে, পরক্ষণে তাকিয়ে দেখি দুটো হাত ভেন্টিলেটর দিয়ে ঠিক আমার গলার কাছে, হয়তো আমি সময়মতো চিৎকার না দিলে আমাকে মেরে ফেলে সব লুটপাট করে তারপর ধর্ষণের চেষ্টা করত।
পরের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমি খুব সাহসিকতার সাথে চেঁচামেচি করে বেরিয়ে আসি। আমার চিৎকার শুনেই আমার ড্রাইভার এগিয়ে এসে লোকটাকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে যায়। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে- ‘লোকটা অনেকগুলো ডিমের খোসা নিয়ে ওয়াশরুমের পেছনে যাচ্ছিল। আপনি ওয়াশরুমে ঢোকার পরেই আমি ভাবছিলাম হয়তো ময়লা ফেলতে যাচ্ছে, তাই কিছু বলিনি। আপনার চিৎকার শুনে বের হয়েছি’।
এ ঘটনায় ভীষণ ভয় পেয়েছিলেন ফারিন। তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপরে উপরে সাহস দেখালেও আমি জানি ভেতরে ভেতরে কতটা ভয় পেয়েছিলাম এবং পরের দিন সকালে শুটিং ইউনিটের অনেকের সঙ্গে ব্যাপারটা শেয়ারও করেছিলাম। এর থেকে বিশ্রী অভিজ্ঞতা আর কিছু হতে পারে না।
এ ঘটনার পর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ভেবেছিলাম, বিষয়টি কাউকে বলে আর কী হবে, হয়তো আল্লাহ আমাকে সেদিন রক্ষা করেছেন। কিন্তু মানসিকভাবে আমি যে, কী পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি কতটা খারাপ লাগা কাজ করেছে, কী পরিমাণ চাপা যন্ত্রণা অনুভব করেছি; সেটা শুধু আমি জানি। আমরা যেসব মেয়েরা বাইরে কাজ করি, আমরা জানি এ ধরনের কত কত পরিস্থিতির শিকার হতে হয়।
দেশে মেয়েরা নিরাপদ নয় বলে মনে করেন ফারিন খান। তার মতে, এই দেশে সত্যিই মেয়েরা নিরাপদ না। যে দেশে আমাকে আমার পোশাক দিয়ে বিচার করা হয়, সে দেশে আসলে ধর্ষণের মতো আচরণ শুধুই মেয়েদের দোষ, যার বিচার বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো তেমন হয়নি, যেটার ভয়ে এসব বন্ধ হবে।
উল্লেখ্য, ‘ধ্যাততেরিকি’ সিনেমার মাধ্যমে ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ফারিন খানের। ছবিটি মুক্তির পর ফারিন আলোচনায় এলেও পরে তাকে আর সিনেমায় দেখা যায়নি। সিনেমায় অভিনয় না করলেও নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন ফারিন খান।

