ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করায় চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের বাঘসহ মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ইটিভি জানিয়েছে, জবাইয়ে বিধিনিষেধের কারণে গরু-মহিষের মাংসের দাম দেড়শ থেকে দুইশ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহও কমে গেছে।
ফলে চিড়িয়াখানার প্রাণীদের জন্য প্রয়োজনীয় মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের মুরগি, শূকর ও ছাগলের মাংস দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সাফারি পার্কগুলোতে। পার্ক সূত্র জানিয়েছে, সেখানে ১১টি রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ, তিনটি চিতাবাঘ, কুমির, ঘড়িয়ালসহ ২৫টির বেশি মাংসাশী প্রাণী রয়েছে।
এসব প্রাণীর জন্য প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি গরু ও মহিষের মাংস প্রয়োজন হয়। একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘকে দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি মাংস দেওয়া হয়।
এতদিন নকশালবাড়ি এলাকা থেকে এসব মাংস সরবরাহ করা হলেও কড়াকড়ির কারণে এখন সেখানে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাঘ ও চিতাবাঘের মতো প্রাণীর শারীরিক শক্তি ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বজায় রাখতে গরু বা মহিষের মাংস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সলিটরি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী বলেন, বাঘ বা চিতাবাঘ জঙ্গলে না থাকায় নিজেরা শিকার করতে পারে না। তাই তাদের জন্য উপযুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি।
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বাঘ বা আমেরিকান চিতার দিনে ১০ থেকে ১২ কেজি লাল মাংস প্রয়োজন হয়। শীতকালে এই চাহিদা আরও বাড়ে।
চিড়িয়াখানার প্রধান কর্মকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেন, শুধু মুরগির মাংস দিয়ে সারা বছর চালানো সম্ভব নয়। সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজ্য সরকার গরু ও মহিষ জবাইয়ে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নির্দিষ্ট কসাইখানা ও অনুমতি ছাড়া জবাই করা যাবে না। গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং তা কর্ম ও প্রজনন ক্ষমতাবিহীন হতে হবে।

