ইরান যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে চাপ বেড়েছে ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর। এর প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ বা দেশে বিয়ে আয়োজন উৎসাহিত করার প্রচারণা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ভারতীয় সরকার এই উদ্যোগকে আরও জোরদার করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মুম্বাইয়ের ২৯ বছর বয়সী শুভাঙ্গী শেঠ একসময় ইতালির লেক কোমোতে স্বপ্নের বিয়ের কথা ভাবলেও এখন তিনি ভারতের মধ্যেই বিয়ের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি এখন একটি ঐতিহ্যবাহী, শিকড়-নির্ভর বিয়ে চাই। আমরা বিয়েটা ভারতেই করব।”
সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সমাবেশে মোদি বলেন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে, যা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের কারণ হচ্ছে। তার ভাষায়, “বিয়ের জন্য ভারতের চেয়ে সুন্দর বা পবিত্র জায়গা আর হতে পারে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে। দেশটি তার তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা সরাসরি ভারতীয় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়, বিদেশ ভ্রমণ কমানো, বাড়ি থেকে কাজ করা এবং স্বর্ণ ক্রয় সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ভোক্তা দেশ, যেখানে স্বর্ণ সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতোমধ্যে রুপি ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়ে পড়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি এশিয়ার প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পতন হওয়া মুদ্রাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
ভারতের বিয়ের শিল্প বর্তমানে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর দেশটিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বলিউড সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিলাসবহুল আয়োজনের কারণে ভারতীয় বিয়ে এখন বৈশ্বিক পর্যায়ের নজর কাড়ছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশেই বিয়ের আয়োজন করার প্রবণতা বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত থাকা আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিদেশে আয়োজনের তুলনায় এখন অনেকেই ভারতে বিয়েকে বেশি গ্রহণযোগ্য ও আর্থিকভাবে সুবিধাজনক মনে করছেন।
সরকারের এই প্রচারণাকে অনেকে আগের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। এবার তা বিয়ে শিল্পে ‘ওয়েড ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানে রূপ নিয়েছে।
তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছে, সরকার জনগণকে ত্যাগ স্বীকারে উৎসাহিত করছে, যা অর্থনৈতিক দুর্বলতার বাস্তব চিত্রই তুলে ধরে।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক সংকট সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিয়ের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রবণতা ভবিষ্যতে দেশের পর্যটন ও সেবা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সূত্র: সিএনএন

