কানাডা থেকে এসে গায়িকাকে খুন করে ফিল্মি স্টাইলে পালালেন হত্যাকারী

0
কানাডা থেকে এসে গায়িকাকে খুন করে ফিল্মি স্টাইলে পালালেন হত্যাকারী

পাঞ্জাবি সংগীত জগতের উদীয়মান তারকা ইন্দর কৌর ওরফে যশিন্দর কৌরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে লুধিয়ানার একটি খাল থেকে। গত ১৩ মে বন্দুকের মুখে অপহরণের শিকার হওয়ার ছয় দিন পর অবশেষে তাঁর সন্ধান মিলল মৃত অবস্থায়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুখবিন্দর সিং নামের এক ব্যক্তির হাত রয়েছে এবং সে ইতিমধ্যেই কানাডায় পালিয়ে গেছে বলে দাবি করছে নিহত গায়িকার পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের গাড়ি নিয়ে মুদিদোকানে কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলেন ইন্দর কৌর। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি। এরপরই পরিবারের সদস্যরা তাঁর সন্ধান শুরু করেন এবং তাঁদের সন্দেহের তির যায় ভালোল এলাকার বাসিন্দা সুখবিন্দর সিংয়ের দিকে। অভিযোগ উঠেছে, সুখবিন্দর দীর্ঘদিন ধরেই ইন্দরকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ইন্দর সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁর ওপর চরম ক্ষোভ তৈরি হয় সুখবিন্দরের মনে।

নিহত গায়িকার ভাই জতিন্দর সিং পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানিয়েছেন, সুখবিন্দর সিং কানাডা থেকে বিশেষ পরিকল্পনা করেই পাঞ্জাবে এসেছিলেন ইন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ইন্দর কৌরের গাড়ি থামিয়ে বন্দুকের মুখে তাঁকে অপহরণ করা হয়। এরপর তাঁকে হত্যা করে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় নেলো খালে। আর এই অপরাধ সংঘটিত করেই সুখবিন্দর তড়িঘড়ি করে আবার কানাডায় পালিয়ে যায়।

এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহতের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, গত ১৫ মে সুখবিন্দর সিং এবং তাঁর সহযোগী করমজিৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ সময়মতো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অবশ্য জামালপুর থানার এসএইচও বলবীর সিং জানিয়েছেন, মামলাটি গুরুত্বের সাথে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উদীয়মান এই পাঞ্জাবি গায়িকা তাঁর আঞ্চলিক পরিবেশনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন। ‘সোনে দি চিড়ি’, ‘জিজা’, ‘সোহনা লাগদা’ এবং ‘দেশি সিরে দা’-এর মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় গান গেয়ে সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করছিলেন তিনি। 

সূত্র: এনডিটিভি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here