লঞ্চ চলাচল বন্ধ, রাঙামাটি নৌরুটে চরম ভোগান্তি

0
লঞ্চ চলাচল বন্ধ, রাঙামাটি নৌরুটে চরম ভোগান্তি

কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় রাঙামাটির নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ডুবোচর জেগে ওঠা ও নৌপথ অগভীর হয়ে পড়ায় একাধিক রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে নৌকা ও স্পিডবোটই একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু ও বরকলসহ ছয়টি উপজেলা মূলত কাপ্তাই হ্রদের নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচরে লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বরকল ও লংগদুতে সীমিত আকারে ছোট নৌযান চললেও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্রদে দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং অনেক স্থানে নৌযান আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কাঁচালং নদীর মতো এলাকাগুলো এখন অগভীর হয়ে পড়েছে, অনেক জায়গা ছড়ার মতো দেখাচ্ছে। এর ফলে স্পিডবোটও অনেক রুটে স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনু উদ্দিন সেলিম বলেন, গ্রীষ্মের শুরু থেকেই কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমতে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়। বর্তমানে একাধিক নৌরুটে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যাত্রী পরিবহন ছাড়াও পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে পানি কমে যাওয়ার কারণে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। ২৩২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, আগামী বর্ষা মৌসুম শেষে হ্রদে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। জেলার বিভিন্ন স্থানে খাল খননের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে নৌপথসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here