কুড়িগ্রামে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

0
কুড়িগ্রামে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

কুড়িগ্রামে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামে প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছিল। তবে গত দুদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত জেলায় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়। এতে মাঠঘাট, সড়ক ও রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলা শহরের বিভিন্ন অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনের মাঠ।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গতরাত থেকে বুধবার দিনভর গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা একদিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত।

এ কারণে জেলা সদর পৌরসভাসহ বিভিন্ন এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস-আদালতের সামনেও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে, ফায়ার সার্ভিস, পিটিআই চত্বর, শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন এলাকা। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী চাকরিজীবীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

মজিদা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র বোরহান উদ্দিন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কলেজের সামনে হাঁটুসমান পানি জমেছে। ফলে মাঠ পেরিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা আবুল হোসেন বলেন, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই ডিসি অফিসের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। কাপড় ভিজিয়ে অফিসে প্রবেশ করতে হয়। আজও অনেক কষ্টে অফিসে ঢুকেছি।

 স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ ধরনের আবহাওয়া আরও দু-এক দিন থাকতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীসহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনো আশঙ্কা নেই।

এদিকে জেলার নয় উপজেলার অনেক নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে সদ্য উঠতি কাঁচা-পাকা বোরো ধানখেত, পাটখেত এবং বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, পটলসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গতকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চলের বড় ধানখেতসহ কিছু ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। কোথাও কোথাও আরও এলাকা তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here